সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) জন্য তৈরি ২০ হাজার পোশাক জব্দের মামলার প্রধান আসামি সাহেদুল ইসলামের জামিন জালিয়াতির ঘটনায় হাইকোর্টের এক বেঞ্চ অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার নাম জাকির হোসেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পাশাপাশি কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল এই জালিয়াতির তথ্য প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিষয়টি জানার পর প্রধান বিচারপতি ঘটনা তদন্তে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেধে দেন। সেই তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে নেওয়া জামিন আদেশে দুই বিচারপতির সইয়ের পর তা বদলে ফেলা হয়। বদলে ফেলা ওই জামিন আদেশ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে নতুন করে মামলার নাম্বার ও থানার নাম বসানো হয়।
পরে সেটি দাখিল করা হয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া জামিন আদেশের ভিত্তিতেই কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন চট্টগ্রামে ‘কুকি-চিনের’ ২০ হাজার পোশাক জব্দের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলার আসামি সাহেদুল ইসলাম। যিনি চট্টগ্রামের ‘রিংভো অ্যাপারেলসের’ মালিক।
সাত মাস আগে উচ্চ আদালতে তথ্য গোপন ও জামিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ পেয়েছে। মামলার আরেক আসামি উচ্চ আদালতে জামিন নিতে এসে ওই আসামির জামিনের নজির উপস্থাপন করার পর বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপরই চাঞ্চল্যকর এই জামিন জালিয়াতির ঘটনা সরাসরি প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় তৈরি পোশাক কারখানা রিংভো অ্যাপারেলসের গুদাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠন ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের’ (কেএনএফ) সদস্যদের জন্য তৈরি করা ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় রিংভো অ্যাপারেলসের মালিক সাহেদুল ছাড়াও এসব তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ দেওয়া গোলাম আজম (৪১) ও নিয়াজ হায়দারকেও (৩৯) আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, দুই কোটি টাকা দিয়ে মংহলাসিন মারমা এবং কুকি-চীনের সদস্যদের কাছ থেকে এসব পোশাক তৈরির অর্ডার নেওয়া হয়। রিংভো অ্যাপারেলসের প্রডাকশন ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামানকে এসব পোশাক জব্দের সাক্ষী রাখা হয়েছে।
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে এই সশস্ত্র সংগঠনের অস্তিত্ব সামনে আসে ২০২২ সালের শুরুর দিকে। বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, খুমি ও ম্রোদের নিয়ে এ সংগঠন গঠন করার কথা বলা হলেও সেখানে বম জনগোষ্ঠীর কিছু লোক রয়েছে। সে কারণে সংগঠনটি পাহাড়ে ‘বম পার্টি’ নামে পরিচিতি পায়।


