শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেছেন, কিছু দুষ্কৃতকারী বিভাজন সৃষ্টি ও অস্থিরতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা হবে। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে দীপু চন্দ্র দাসের বাবা-মাসহ পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করবে সরকার।
তিনি বলেন, একটি ঘটনা ঘটেছে। এখন পরিবারের কী চাহিদা, তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পোশাককর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পরিবারের খোঁজ নিতে এসে মঙ্গলবার বিকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীপুর পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে শান্ত্বনা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের আশ্বাস দেন শিক্ষা উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বিভিন্ন রকমের সম্প্রদায়গত সমস্যা সৃষ্টি করার জন্য একটি চক্র সুযোগ নেবে। কিন্তু মিডিয়া, বৃহত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রকে সজাগ থাকতে হবে। যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, দুর্বলের ওপর যেন আর অত্যাচার না হয়। সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের যে পথ আমরা জাতি হিসেবে নির্দিষ্ট করেছি, আমরা অতি দ্রুত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং কালক্ষেপণ না করে সেই পথেই এগোতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। যত রকমের অপচেষ্টা হোক না কেন, এসব ঘটনা নির্বাচন বানচালে কোনো প্রকার প্রভাব ফেলবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই হয়তো এসব করা হচ্ছে। কিন্তু সেই চাপে নতি স্বীকার করার ইচ্ছা সরকারের নেই। সব সমস্যা ও সংকট নিরসনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে উত্তরণ ঘটাতে পারবে। জাতি হিসেবে আমরা সবাই এটাই প্রত্যাশা করি। একই সঙ্গে সরকারও অঙ্গীকারবদ্ধ।’
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন, তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নাজমুস ছালেহীনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


