কাঠমান্ডুর অস্থিরতায় বাতিল হলো বাংলাদেশের অনুশীলন

কাঠমান্ডুর অস্থিরতায় বাতিল হলো বাংলাদেশের অনুশীলন
ছবি: বাফুফে
Advertisement
Advertisement

কাঠমান্ডুর রাস্তায় হঠাৎ বিক্ষোভ, তারপরই সরকারের কারফিউ। এমন অস্থির পরিস্থিতিতে ৯ আগস্ট মাঠে নামার আগ মুহূর্তে ভেস্তে গেল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলন। বিকেল তিনটায় দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুশীলনের কথা ছিল জামাল ভূঁইয়াদের, ঠিক সেই ভেন্যুতেই দুই দিন আগে খেলেছিল বাংলাদেশ ও নেপাল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মাঠে নামা আর সম্ভব হয়নি।

বিকেল দু’টো বাজতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ছাত্র সংগঠন আর সাধারণ মানুষ নেমে আসে রাজপথে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে। এক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে রাজধানীজুড়ে জারি হয় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা। এর পরপরই বাংলাদেশ দলের অনুশীলন বাতিল করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ দলের মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমাদের অনুশীলন শুরু হওয়ার কথা ছিল স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে। কিন্তু ২.৩০ নাগাদই জানানো হয় বাইরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। নিরাপত্তার কারণে মাঠে যাওয়া সম্ভব নয়। দল এখন হোটেলেই আছে এবং সবাই নিরাপদে রয়েছে।’

অনুশীলন বাতিল হওয়ায় মঙ্গলবার ৯ আগস্টের ম্যাচ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সূচি অনুযায়ী দশরথ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশ ও নেপালের। কিন্তু যদি পরিস্থিতি শান্ত না হয়, ম্যাচও প্রভাবিত হতে পারে।

এ নিয়ে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা বাড়তি চিন্তায় পড়েছেন। ৭ আগস্ট বিশ্রামে ছিল বাংলাদেশ দল, আর ৮ আগস্ট মাঠে নামার সুযোগই হলো না। টানা দুই দিন বাইরে অনুশীলন না করতে পারা নিঃসন্দেহে ম্যাচের আগে প্রস্তুতিকে ধাক্কা দিয়েছে।

আরও পড়ুন

তবে খালি বসে থাকেননি খেলোয়াড়রা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হোটেলেই ফিটনেস আর ট্যাকটিক্যাল সেশন করেছেন তারা। প্রায় দেড় ঘণ্টা অনুশীলনে ছেলেদের মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন কাবরেরা। যদিও এটি মাঠের অনুশীলনের বিকল্প হতে পারে না, অন্তত খেলোয়াড়রা কিছুটা ছন্দে থাকার সুযোগ পেয়েছেন।

এর আগেই সকাল বেলায় দুই দলের কোচ ও অধিনায়করা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে দ্বিতীয় ম্যাচ ঘিরে আশাবাদ শোনালেও বিকেলে ফুটবল থেমে যায় কাঠমান্ডুর অশান্তির কাছে। সৌভাগ্যবশত বাংলাদেশ দলকে কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি, সবাই হোটেলেই নিরাপদে আছেন।

প্রথম ম্যাচের হতাশা এখনো ঝুলছে বাংলাদেশ শিবিরে। গোলের সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ফলে গোলশূন্য ড্র-ই মেনে নিতে হয়েছিল জামাল ভূঁইয়াদের। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই ভুল শুধরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশাই ছিল। কারণ, অক্টোবরেই এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে হংকংয়ের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। কিন্তু কাঠমান্ডুর রাস্তায় বিক্ষোভ আর কারফিউ সেই প্রস্তুতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখন প্রশ্ন একটাই, ৯ আগস্ট নির্ধারিত সময়ে মাঠে গড়াবে তো বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচ? উত্তরটা পাওয়া যাবে পরিস্থিতি শান্ত হলে। তার আগে বাংলাদেশ দলের একমাত্র কাজ, হোটেলের ভেতর থেকেই নিজেদের মানসিক প্রস্তুতি ধরে রাখা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিকূলতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ, আর সেই পরীক্ষাই এখন দিচ্ছে লাল-সবুজের তরুণরা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad