যুক্তরাষ্ট্র ‘ব্র্যান্ডেড অথবা পেটেন্ট করা’ ওষুধে শতভাগ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রপ্তানির ওপর তার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) সভাপতি আবদুল মুকতাদির।
শুক্রবার তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাংলাদেশ কেবল জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি করে। কাজেই আমরা যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত নতুন শুল্ক আওতার বাইরে। ওষুধের বর্ধিত শুল্কে আমাদের রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্তও হবে না আবার রপ্তানির পরিমাণও বাড়বে না।’
বিএপিআই সভাপতির মতে, উন্নত দেশগুলোতে সাধারণত ব্র্যান্ডেড ওষুধের বিকল্প হিসেবে ‘পেটেন্টমুক্ত জেনেরিক’ ওষুধ খুব একটা ব্যবহৃত হয় না। মূলত বিভিন্ন ওষুধের উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠানগুলোই ‘ব্র্যান্ডেড ওষুধ’ তৈরি করে। সেগুলোর ওপর প্রায় ২০ বছরের পেটেন্ট সুরক্ষা থাকে।
মুকতাদির বলেন, ‘ইউরোপীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ওই দেশেই উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করবে। এ ধরনের ওষুধ নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হওয়ায় নির্দিষ্ট রোগের জন্য বেশি কার্যকর এবং দামের দিক থেকেও বেশ ব্যয়বহুল।’

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশও জেনেরিক ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে আয় দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৩০ লাখ ডলারে। যার কেবল ১০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে গেছে।
বর্তমানে দেশের ওষুধ শিল্প বিশ্বের ১৪৪টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। সেই সঙ্গে দেশের প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার ওষুধ চাহিদার ৯৮ শতাংশ নিজেরাই যোগান দিচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা ওষুধের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ১ অক্টোবর থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘এসব পণ্যের উৎপাদক ও নির্মাতা কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা গড়ে না তুললে, তাদের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপিত হবে।’
তার দাবি, বাইরের দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ায় সে দেশের উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘বৈদেশিক আমদানি থেকে স্থানীয় উৎপাদকদের রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’


