২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এবং শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত জানান, গত ২০ তারিখ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
এনসিপি মনে করে, সরকারের এমন উদাসীনতা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক উন্নয়ন বা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার চেয়ে পরীক্ষার হল তদারকি এবং লোকদেখানো প্রচারণাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রশ্ন ফাঁসের মতো ভয়াবহ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু নকল রোধের বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার উদ্দেশ্যে হল পরিদর্শন করায় মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক দুর্বলতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এনসিপির মতে, পরীক্ষার হল পরিদর্শনের কাজ শিক্ষক ও পরিদর্শকদের ওপর ছেড়ে দিয়ে মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল প্রশাসনিক তদারকির মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের উৎস বন্ধ করা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়াকে অযৌক্তিক বলে মনে করছে এনসিপি। অবিলম্বে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে এর পেছনে জড়িত প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।
এনসিপি সতর্ক করে দিয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থার এই অপূরণীয় ক্ষতি রোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক গভীর সংকটের সম্মুখীন হবে।


