সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানের ডেগ সিলগালা ও নতুন দানবাক্স বসানোর পর এবার হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনা ও মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।
শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শাহপরান মাজার পরিদর্শনে যান ডিসি। পরে মাজার মসজিদে বক্তৃতা দেন জেলা প্রশাসক। এসময় তিনি মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।
সারওয়ার আলম বলেন, ‘ওলি-আউলিয়ারা এই মাটিতে শুয়ে আছেন, তাদের উসিলায় যে কোন বালা মুসিবত থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি। এসব ওলি আউলিয়াদের মাজার-মসজিদ উন্নয়নে কিছু কাজ করা দরকার। পরিকল্পিত উন্নয়ন দরকার। এসব মাজারকেন্দ্রিক একটা মাস্টারপ্ল্যান করা উচিত। এখানে মেডিকেল সেন্টার থাকবে। নারীদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপত্তার যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকবে।’
মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই মাজারগুলি পবিত্র স্থান। এই মাজারগুলির আয়ের হিসাব স্বচ্ছ থাকতে হবে। স্বচ্ছ না থাকলে মানুষের আস্থা থাকবে না।
সারওয়ার আলম বলেন, ‘মাজারগুলোতে যাতে কোনোভাবে যাতে মদ-গাঁজার আসর না বসে। এই অভিযোগগুলো আমাদের কাছে প্রায়ই আসে। এসব করা যাবে না। এটি আইনত অপরাধ। মাজারে কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি দিগুণ হবে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।’
এরআগে বৃহস্পতিবার বিকালে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে দানের তিনটি বড় ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। এসময় নতুন করে দানবাক্সও বসানো হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত করা হয় আনসার সদস্য।
এ ঘটনার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল মাজার–ভক্ত দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ‘শাহজালাল, শাহজালাল’ স্লোগান দেন। এ সময় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নতুন দানবাক্স বসানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে থাকা এই দান বাক্সগুলোতে জমা হবে। আগে যেমনটা হাতে হাতে দানের টাকা নেওয়া হতো, এখন আর এমনটা করা যাবে না।


