আগামী এপ্রিলেই চীন সফর করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপ শেষে ট্রাম্প নিজেই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মাদক ফেন্টানিলের ভয়াবহতা, তাইওয়ান ইস্যুসহ নানা বিষয়ে জিনপিংয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরে যাবেন।
ফোনালাপের পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী!’ এছাড়া প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও আগামী বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, শির সঙ্গে সোমবার প্রায় এক ঘণ্টার ফোনালাপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল বাণিজ্য। ফোনালাপে তারা রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ ও তাইওয়ান ইস্যুতেও কথা বলেছেন।
লেভিট জানান, শি ট্রাম্পকে বলেছেন, তাইওয়ানের ‘চীনের দিকে ফিরে আসা’ তাদের জন্যই মঙ্গলজনক। এটি যুদ্ধবিহীন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চীনের ভাবনা বাস্তবায়নের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
‘আমরা চীনের দিক থেকে ইতিবাচক আচরণ দেখছি, তারাও এ বিষয়ে সন্তুষ্ট’, বলেন ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি। তবে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তাইওয়ান নিয়ে কিছু বলেননি।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশকে সমতা, সম্মান ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আগের মতোই ভালো সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।
গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন দুই নেতা। এতে ওয়াশিংটন-বেইজিং শুল্ক উত্তেজনাসহ পারস্পারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে সম্মত হন।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে চীনের বিভিন্ন পণ্যে শতভাগ শুল্ক কার্যকরের হুমকি দিলেও জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প কিছু পণ্যে আরোপিত ২০% শুল্ক কমিয়ে ১০% করার ঘোষণা দেন।
শুল্ক কমানোর পর যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকিও তুলে নেয়। একই সময়ে চীনও তাদের নতুন বিরল খনিজ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কিছুদিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়।
মাদক ফেন্টানিল রপ্তানি ঠেকাতে চীনা সরকার ট্রাম্পের সঙ্গে সম্মত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত আসে। তবে এখনও চীনা পণ্যের ওপর গড়ে প্রায় ৫০% শুল্ক বহাল রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
চীনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার বৈঠকের পর থেকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক মোটামুটি স্থিতিশীল ও ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। এটি দুই দেশ ও আন্তর্জাতিক সমাজের জন্যই ভালো।


