এক্স হ্যান্ডেল থেকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর’ পরিচয় (বায়ো) সরিয়ে নিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার সকালে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার আগ মুহূর্তে নিজের পরিচিতিতে এই পরিবর্তন আনেন সদ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এতেই প্রমাণিত হচ্ছে অবশেষে বিজেপির কাছে পরাজয় মেনে নিয়েছেন ১৫ বছর টানা পশ্চিমবঙ্গ দাপিয়ে বেড়ানো এই নেত্রী।
অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের ১৭তম বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪ আসনের মধ্যে কেবল ৮০টি আসন পায়।
এতে ভারতের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের সুযোগ পায় কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
এদিকে বিধানসভার ভোটের ফল প্রকাশ পাওয়ার পর মমতাকে পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য ক্ষমতা নিতে বলা হলে তিনি তাতে অনীহা দেখান। এমনকি পদ ছাড়তে সোজাসুজি মানাও করে দিয়েছিলেন। তবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ ঘিরে নিরবতা বজায় রাখায় এবং এক্সে নিজের পরিচিতিতে পরিবর্তন এনে নিভৃতে ক্ষমতায় ইস্তফা দেওয়ার বিষয়টিই নতুন করে উসকে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসপ্রধান।
শনিবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক্স হ্যান্ডেলের বায়োতে দেখা যায়- ‘ফাউন্ডার চেয়ারপারসন, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (১৫তম, ১৬তম ও ১৭তম বিধানসভা)’ লেখা রয়েছে।
আগে তার বায়োতে লেখা ছিল, ‘ফাউন্ডার চেয়ারপারসন, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ’।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল নিয়ে মমতা বলেন, ‘এটি জনগণের প্রকৃত রায় নয়, বরং একটি ষড়যন্ত্রের ফল।’
তিনি অভিযোগ করেন, ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং প্রায় ১০০টি আসন ‘ছিনতাই’ করা হয়েছে। গণনার গতি ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর করে তার দলের মনোবল ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মমতা বলেন, ‘আমি কেন পদত্যাগ করব? আমরা হারিনি। আমার পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। জনগণের রায়ে নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের হারানো হয়েছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বায়োতে ‘বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়ের বদলে ‘তিন দফার মুখ্যমন্ত্রী’ উল্লেখ করায় স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি কার্যত ক্ষমতা হারানোর বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।
অন্যদিকে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জাঁকজমক আয়োজনে শনিবার বেলা ১২ টার দিকে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে শপথ নিয়েছেন তার মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্য। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।


