জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন পাঁচটি, সংশোধিত পাঁচটি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে চারটি প্রকল্পের।
সভায় পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, বিদ্যুৎ, কৃষি, শিল্প, সড়ক পরিবহন, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্বাস্থ্য খাতে ‘এক্সপেন্ডিং অ্যাক্সেস টু ইনটিগ্রেটেড হেল্থ কেয়ার ফর দ্য আরবান পপুলেশন’ প্রকল্প, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ‘পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় চারটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘রিভার প্রজেক্ট’ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের আবাসন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি বড় প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ, পার্বত্য এলাকায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, বরিশাল–ভোলা–লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন এবং মধুখালী থেকে মাগুরা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প।
এ ছাড়া সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ৩৩টি প্রকল্প সম্পর্কেও অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন, নদী পুনঃখনন, আইটি অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি গবেষণা, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ নানা উন্নয়ন কার্যক্রম।
সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব প্রকল্প দেশের অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক খাতকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


