জাতীয় নির্বাচনের তারিখসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে চলছে তোলপাড়, তখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ নিয়ে বাড়ছে বাহাস। বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ না নিয়েই দায়িত্বপালনের ঘটনা পরিস্থিতিকে করে তুলেছে জটিল। এ অবস্থায় বিএনপি ইশরাক ইস্যুর দ্রুত নিস্পত্তি চাচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সোমবার ‘ইশরাক ইস্যুতে’ বিস্তর আলোচনা হয়েছে। মেয়র পদের জন্য সরকারের সঙ্গে এ সময়ে বিরোধ বাড়াতে চাচ্ছেন না অধিকাংশ নেতা। তবে ‘অহেতুক জটিলতার’ জন্য তারা সরকারকেই দায়ী করছেন। দ্রুত নিস্পত্তি চাইলেও বিএনপি এখন পর্যন্ত চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইশরাক হোসেন সর্বোচ্চ আদালতের রায় পেয়েছেন, নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল আদালতের রায় মেনে তাকে মেয়র পদে শপথ পড়ানোর ব্যবস্থা করা। এখানে আইনের ব্যত্যয় ও আদালতের রায়ের অবমাননা হয়েছে। আমরা চাই আদালতের রায় বাস্তবায়ন হোক।’
দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ইশরাকের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হলে দলের পক্ষ থেকেই জানানো হবে।’
মেয়র পদ নিয়ে বিরোধের বিষয়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নেয়ার আইনি কোনো সুযোগ নেই। সিটি করপোরেশনের মেয়াদ এবং নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী শপথের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।’
ইশরাক ও তার অনুসারীদের আন্দোলনে সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবাদানে বিঘ্ন ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৫ শতাংশ নাগরিক সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। ইশরাক হোসেন আইন ভঙ্গ করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এটি করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিএনপির দলীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’
সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক’ তৈরি হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সেটি আমরা ধরে রাখতে চাই। মেয়রের বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে বিএনপি যথাযথ উদ্যোগ নেবে বলে আশা করি।’
অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘শপথ পড়ানোর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ক্রমাগত মিথ্যাচার করছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের আন্দোলনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে এই বিষয়টি বহু আগে নিষ্পত্তি হয়েছে। তারপরও উপদেষ্টা আইনি ঝামেলার কথা বলছেন ভিন্ন মতলবে।’
সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ইশরাক ইস্যুতে বিস্তর আলাপ হলেও তা নিয়ে মুখ খুলছেন না নেতারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সভায় সমসাময়িক সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি ইশরাক প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দলের আরেক নীতি নির্ধারক সেলিমা রহমান বলেন, ‘অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ইশরাক হোসেনের ইস্যুতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।’
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র হন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস। গত ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে। এর এক মাস পর ইশরাককে ডিএসসিসির মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু আইনি জটিলতার কথা বলে ইশরাকের শপথের আয়োজন থেকে বিরত থাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এমন পরিস্থিতিতেই ইশরাক সমর্থকরা আন্দোলনে নামলে নগর ভবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে।


