লেবাননে ২ ইসরায়েলি সেনা নিহত
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের দুই সৈন্য নিহত হয়েছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার এবং ইসরায়েলি বিমান হামলা জোরদার হওয়ার পর এই প্রথম তাদের সেনাদের মধ্যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার পরিস্থিতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র উত্তজনা বিরাজ করছে। বর্তমানে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে এই লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে ৩৯৪
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮৩টি শিশু।
রোববার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ১ হাজার ১৩০ জন।
গত সোমবার থেকে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষ্য, তারা সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরব আমিরাতে ইরানের হামলায় নিহত বেড়ে ৪
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিকঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ‘নির্লজ্জ ইরানি আগ্রাসনের শুরু’ থেকে এ পর্যন্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ২৩৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, ১ হাজার ৪২২টি ড্রোন এবং ৮টি ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত রোববার দেশটি ১৭টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১১৭টি ড্রোন শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ১৬টি মিসাইল ও ১১৩টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। একটি মিসাইল ও ৪টি ড্রোন সাগরে পড়ে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানে তেল ডিপোতে হামলায় নিহত ৬, আহত ২১
ইরানের আলবোরজ প্রদেশের কারাজ শহরের ফারদিস তেল ডিপোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
এক স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নিহতদের মধ্যে পার্শ্ববর্তী ঘরবাড়ির বাসিন্দারাও রয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের সির এল-গারবিয়া গ্রামে একটি তিনতলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মৃতদেহ উদ্ধারে সিভিল ডিফেন্স ও উদ্ধারকারী দল কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ ডুবে তিন ইন্দোনেশীয় নাবিক নিখোঁজ

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী টাগবোট মুসাফ্ফাহ–২ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তিনজন ইন্দোনেশীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার হরমুজ প্রণালীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার আগে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং পরে তাতে আগুন ধরে যায় বলে জানানো হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালী পাড় হওয়ার সময় জাহাজটিতে ইরান থেকে হামলা হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজ থেকে উদ্ধার হওয়া একজন ইন্দোনেশীয় নাবিক বর্তমানে ওমানের খাসাব শহরের একটি হাসপাতালে দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অন্য তিনজন ইন্দোনেশীয় নাবিককে খুঁজে বের করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
জাহাজ ডুবির কারণ জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতাকেও লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের

ইরানে যাকেই সর্বোচ্চ নেতা করা হবে তাকেই ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হতে হবে বলে হুমকি দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফার্সিতে দেওয়া এক পোস্টে আইডিএফ জানিয়েছে, কেবল ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতাই নয় বরং তাকে নির্বাচিত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত সবাইকে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু হতে হবে।
অর্থাৎ, ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস বা বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরাও ইসরায়েলি হামলার শিকার হতে পারেন বলে হুমকি দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘ইসরায়েল যে কোনো অবস্থায় ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া বা নতুন নেতা নিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে বা তা অনুসরণ করতে পিছপা হবে না।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে সমঝোতার ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞ পরিষদের
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর পরবর্তী নেতা নির্বাচনে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ।
ফার্স নিউজকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-মাহদি মিরবাঘেরী জানিয়েছেন, দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণের সব বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ‘এক সিদ্ধান্তেই সবাই মত’ দিয়েছেন। অর্থাৎ খুব শিগগিরই ইরান তাদের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই বিষয়ে পরিষদে ঝানজানের প্রতিনিধিত্বকারী হোজ্জাতুল ইসলাম জাফরি বলেছেন, তিনি আশা করেন যত দ্রুত সম্ভব দেশবাসী নতুন নির্বাচিত নেতার প্রতি সন্তুষ্ট হবে। জাফরি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে তৃতীয় নেতাকে নির্বাচিত করতে দেরী হওয়া সবার জন্য কষ্টের, উদ্বেগের এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতিনিধিদের সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবনা থাকা উচিত নয়।’
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৮৮ জন সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়।
প্রায় ৩৭ বছর ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
এরপর পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার ছেলে মোজতবা আলী খামেনির নাম শোনা যাচ্ছিল। তবে ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
ইরানের স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরোধীরা পরিবারতন্ত্র ক্ষমতার আবির্ভাব চান না বলে মোজতবা খামেনির নেতা হওয়ার বিরোধিতা করেন। তারা অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি রেজা আরাফিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
ইরানের ইসফাহানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১১

ইরানের ইসফাহান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় বিভিন্ন কারখানা ও একটি ঘোড়াসওয়ারি ক্লাব লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।
এ হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইসফাহানের কমপক্ষে আটটি শহর মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ইসফাহান, নাজাফাবাদ, আরান, বিডগোল, বারখার, খোমেনেই শহর, শাহরেজা, ফলাভারজান ও মোবারাকে শহরের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তাসনিম নিউজ।
আরও ৬ মাস 'তীব্র যুদ্ধ' চালিয়ে যেতে পারবে ইরান:আইআরজিসি

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) দাবি, বর্তমান গতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অন্তত আরও ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আছে ইরানের। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নায়িনি এই মন্তব্য করেছেন।
ইরানের ফার্স নিউজ জানিয়েছে, নায়িনি বলেন, এখন পর্যন্ত ইরান কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে আগামী দিনগুলোতে আরও উন্নত এবং তুলনামূলক কম ব্যবহৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে।
তার দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনীও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তারা ইরানের সার্বভৌমত্ম রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শ্রীলঙ্কায় উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের অধিকাংশ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রের টর্পেডো হামলায় শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসীমার কাছে ডুবে যাওয়া একটি ইরানি জাহাজ থেকে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে ২২ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণের বন্দরনগরী গালের কারাপিটিয়া হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, এখনো আরও ১০ জন নাবিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভারত মহাসাগর থেকে উদ্ধার করা ৮৪ জন ইরানি নাবিকের মরদেহও ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার সময় জাহাজটিতে অন্তত ১৩০ জন নাবিক ছিলেন। সে হিসেবে এখনো ৫০ জনের বেশি নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার ভোরে ভারত মহাসাগরে সাবমেরিন হামলা চালিয়ে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ফ্রিগেট ডেনা ডুবিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন নাগরিক হত্যা করলে কঠোর জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র: হুঁশিয়ারি হেগসেথের
বিশ্বের যেখানেই মার্কিন নাগরিকদের হত্যা করা হবে বা তাদের হুমকি দেওয়া হবে, সেখানেই জড়িতদের খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান পিট হেগসেথ।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘যদি তোমরা মার্কিন নাগরিকদের হত্যা করো বা বিশ্বের যেকোনো স্থানে তাদের হুমকি দাও, তাহলে আমরা তোমাদের খুঁজে বের করব। কোনো ক্ষমা বা দ্বিধা ছাড়াই আমরা তোমাদের হত্যা করব।’
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কেন্দ্রীয় কমান্ডও পিট হেগসেথের এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।
এই বার্তার সঙ্গে ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওতে বিভিন্ন যানবাহন ও স্থাপনা মার্কিন বাহিনীর হামলায় বোমা হামলায় ধ্বংস হওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
ইরানের স্কুলে হামলায় শিশু নিহতের ঘটনা যুদ্ধাপরাধ কিনা তদন্তের দাবি

ইরানে মেয়ে শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চালানো যৌথ হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থীসহ ১৬৫জনের বেশি মানুষ নিহতের ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটন হয়েছে কিনা- তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, সংস্থাটি শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের স্কুলটিতে বিমান হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই শিশু। হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, সেখানে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, স্কুলটি ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপসের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকলেও এটি আলাদা দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। এমনকি স্কুলটির প্রবেশপথও ছিল আলাদা।
উপগ্রহচিত্র, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর প্রকাশিত তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই বিস্ফোরণ সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ফলেই ঘটেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় দপ্তর পেন্টাগনের কাছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থাকার পরও স্কুলটি শনাক্ত করতে না পারা কিংবা এরপরও হামলা চালানোকে যুদ্ধপরাধের শামিল বলে মনে করেন মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা।
সংস্থাটির গবেষক সোফিয়া জোনস বলেন, ‘এই হামলার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। হামলার পরিকল্পনাকারীরা আগে থেকেই জানত কি না যে সেখানে একটি স্কুল রয়েছে এবং দুপুরের আগে সেখানে শিশু ও শিক্ষকরা উপস্থিত থাকবে – এ বিষয়টিও তদন্তে খতিয়ে দেখা জরুরি।’
ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় নিহত ১

ইরাকের আধা–স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর।
হামলার সময় এরবিল শহরে কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিমানবন্দরের ভেতর থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখা গেছে। এ সময় আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে থাকে এবং সাইরেন বাজতে থাকে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দর এলাকায় আসা কয়েকটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে।
অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও কুর্দিস্তানের ইরান সরকারবিরোধী সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর আগে ইরানের বিভিন্ন তেলক্ষেত্র এবং বসরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পণ্যবাহী অংশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সুত্র: এপি
ইরানের হামলায় নিহত ৬ মার্কিন সেনার মরদেহ দেশে ফিরল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের পাল্টা হামলায় নিহত ছয় মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে। স্থানীয় সময় শনিবার অত্যন্ত শোকাবহ পরিবেশে তাদের মরদেহ বুঝে নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
মরদেহগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানাতে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প। বিমান থেকে মরদেহগুলোকে নামানোর সময় তাদের উদ্দেশে ট্রাম্পকে সামরিক কায়দায় সালাম জানাতে দেখা যায়।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের দ্বিতীয় দিন ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েতের মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে এই ছয় সেনা নিহত হন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো দেশটির মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ ফিরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখেছে। এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এটি দেশের জন্য খুবই দুঃখজনক একটি দিন।’
এদিকে নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ যুদ্ধকে সমর্থন করলেও অধিকাংশ মানুষ এর বিপক্ষে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের মানবিক ক্ষতির ছবি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই বিরোধিতা আরও বাড়তে পারে।
ইরানের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর শক্তি ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে তাদের সেনাবাহিনী অল্প সময়েই বড় সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ‘মাত্র এক সপ্তাহেই ইরানের এমন সব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে, যা অনেকের কাছেই কল্পনার বাইরে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সেটি বাস্তব করেছে।’
ট্রাম্পের দাবি, এরইমধ্যে ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানে ৪৪টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিমানবাহিনীর সব যুদ্ধবিমানও ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। এ কারণে এখন আগের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে না। ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোতেও কঠোর হামলা চালানো হয়েছে।’
এ ছাড়া ইরানের ড্রোন তৈরির সক্ষমতাও অনেক কমে গেছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরেও বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে।
যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে যুদ্ধ যতদিন লাগে ততদিনই চলবে। এখন পর্যন্ত এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী “অবিশ্বাস্যভাবে সফল” হচ্ছে।’
সূত্র: আল জাজিরা


