ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে তারা এটা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের মাধ্যমে মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে এই প্রস্তাব ওয়াশিংটনের হাতে পৌঁছেছে। তাই, যেকোনো ধরনের সরকারি মন্তব্যের জন্য এটি বেশ আগাম সময়।
তবে সরাসরি আলোচনা না হলেও পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলাদাভাবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। গত এক মাস ধরে চলে আসা এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে কীভাবে একটি স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তর করা যায়, সেটিই ছিল এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য।
শান্তি প্রক্রিয়ায় এখনো বড় ধরনের কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কড়া শর্তারোপ–এই দুই ইস্যুতে উভয় পক্ষই অনড় অবস্থানে রয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের শর্ত না মানলে তারা কোনো জাহাজকে অবাধে চলাচল করতে দেবে না।
উত্তেজনার এই কেন্দ্রবিন্দুগুলো বহাল থাকায় যুদ্ধবিরতি কত দ্রুত স্থায়ী রূপ নেবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাকিস্তান, কাতার, মিশর এবং জর্ডানের মতো দেশগুলোর মাধ্যমে দুই দেশ এখনো পরোক্ষ যোগাযোগ বজায় রাখছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমেই এই অচলাবস্থা নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজন মনে করলে তিনি পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এর আগে, ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানায়, যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি প্রস্তাবের জবাবে তেহরান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে তাদের প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে।
এদিকে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিকে ‘চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে সংকট কেবল আরও ঘনীভূত হবে’। সূত্র: আল-জাজিরা


