‘আলমার ওপর যা ঘটেছে, আমাদের ওপরও তা ঘটতে পারে বলে অনুমান করা যায়। সে কারণে আমাদের জন্য এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।’–এভাবেই পরিস্থিতি বর্ণনা করলেন গাজার উদ্দেশে মানবিক সহায়তা নিয়ে ছুটে চলা নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ কনসায়েন্স জাহাজে থাকা বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, ফ্লোটিলার একেবারে প্রথম দিকের জাহাজ ‘আলমা’ এবং তাদের জাহাজ কনসায়েন্স নৌবহরের সবচেয়ে শেষ এবং বড় জাহাজ। আলমা গাজার কাছাকাছি আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অবস্থানের পরেও জাহাজের আরোহীদের আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী।

এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হচ্ছে না বলেও জানান শহিদুল আলম। তিনি বলেন, ‘এই মাত্র সংবাদ আসলো, আলমার ওপর আক্রমণ হয়েছে। খানিকক্ষণ পর সিগন্যালও থেমে গেল। আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। আমরা যার যার অবস্থান থেকে রিপোর্ট দিতে চেষ্টা করছি’, বলেন তিনি।
উত্তাল সমুদ্রে তারা ঝড়ের কবলে পড়েছেন জানিয়ে এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, ঝড়ের আগে চলতে। তবুও আমরা থেমে নেই। গাজাই আমাদের লক্ষ্য।’
‘জাহাজের সবাই ডেকে নেমে আমরা আলমার সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সহমর্মিতা জানাই। সবাই তাদের উজ্জীবিত রাখতে একত্রে গলা মিলিয়ে সাম্যের গান গাই। আলমায় আমরা এটি পাঠিয়েছি। আমরা তাদের সঙ্গেই আছি। আপনারাও যে তাদের সঙ্গে আছেন, আমাদের সঙ্গে আছেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, সেটা আমাদের জানাবেন। আমরা তাদেরকে তা পৌঁছে দেব।’
তিনি ফেসবুকে একটি ছবিতে জানান, ‘আমরা বার বার সমুদ্রে যাব। বার বার। কারণ এই সমুদ্র তোমাদের নয় এবং ওই ভূমিও তোমাদের নয়। যে পর্যন্ত না ফিলস্তিন মুক্ত হয়!’

গত মঙ্গলবার ইতালির উপকূলীয় শহর ওট্রান্টো থেকে ফ্লোটিলার বৃহত্তম জাহাজ ‘কনসায়েন্স’-এ যোগ দেন শহিদুল আলম।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আলমার পর আরও ১২টি জাহাজ ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে। এসব জাহাজের আরোহীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ইসরায়েলি মন্ত্রী দাবি করেন, তারা সে দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছেন। ইসরায়েলের বাধা ও আটকের পরেও ফিলিস্তিনের গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ ত্রাণবাহী ৩০টি নৌযান।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সবশেষ টেলিগ্রাম পোস্টের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বাকি প্রায় ৩০টি নৌকা এখনও গাজা অভিমুখে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে তারা গাজার উপকূল থেকে ৪৬ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে রয়েছে।
নৌযানগুলো যখন গাজা থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে, সেসময় তাতে বাধা দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। বহরের অন্তত ১৩টি নৌকা থামিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সেইসঙ্গে নৌকার আরোহি মানবাধিকারকর্মীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গও।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার উদ্দেশ্য সমুদ্রপথে গাজার জন্য মানবিক সাহায্য পাঠানো। গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনো থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথম বহর। ধীরে ধীরে এতে যুক্ত হয় নতুন নতুন নৌযান। সবশেষ এই বহরে যুক্ত হয়েছিল বিভিন্ন দেশের ৪০টি নৌযান। যেগুলোয় গাজার জন্য সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিলেন অন্তত ৪৪ দেশের ৫০০ মানুষ।


