বর্তমান সংসদকে একটি ‘ইউনিক সিচুয়েশন’ উল্লেখ করে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব আপনারা এককভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেন না, ‘আপনারা জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হইয়েন না’।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বলয়ে সীমাবদ্ধ হওয়া চলবে না।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিধি-৬২’তে আনীত প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বান’ প্রসঙ্গে আলোচনায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
এর আগে এ বিষয়ে বক্তব্যের সুচনা করেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুল রহমান। এ বিষয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।
আলেচনায় সংবিধানের অস্তিত্ব রক্ষার পক্ষে যুক্তি দিয়ে পার্থ বলেন, ‘সংবিধানকে কেন ছুড়ে ফেলে দেব? সংবিধান মনে করিয়ে দেয় যে এটা ১৯৭১’র পরাজয়ের দলিল (বিরোধীদের দাবির প্রেক্ষিতে)। আমি সংবিধান কেন ছিঁড়ে ফেলব। আমি প্রয়োজনে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারি, কিন্তু এটাকে পুরোপুরি ছুড়ে ফেলার দরকার কী। সংবিধানের ওপরও আমাদের রেসপেক্ট থাকতে হবে। তা না হলে ৭১-কে অস্বীকার করা হয়।’
পার্থ বলেন, ব্যাপার তো অনেক কমপ্লেক্স, একটা ইউনিক সিচুয়েশন। আমি আমার সম্মানিত বিরোধী দলের নেতাদের চোখে আবেগ দেখি, কথায় দেখি; তবে একটা জিনিস এটাও দেখি যে কেন জানি প্রথম থেকেই আমাদেরকে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার একটা পায়তারা দেখতে পাচ্ছি।
এ সময় সংসদে হট্টগোল শুরু হলে তিনি বলেন, ‘আমাকে কথা বলতে হবে। আমার আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে পড়ে যায়। আমরা যদি কোনো কথা বলতাম, বলত যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমরা বলতাম তেলের দাম কত—বলত যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমি অনেকখানি ওই আচরণ দেখতে পাচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা, জুলাই নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই. আমাদের সমস্যা প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় করতে চাচ্ছেন?’
সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আপনারা সেই সময় রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট কেন করেননি? কেন নরমাল গভর্মেন্টে গেলেন? ট্রানজিশনাল রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট করতেন, কনস্টিটিউশন ছিঁড়ে ফেলে দিতেন। পুরনো কনস্টিটিউশনে থেকে আপনারা সংবিধানকেই বাতিল করে দিতে যাচ্ছেন, এটা আসলে হয় না।’
জুলাই আন্দোলনে সবার অংশীদারত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পার্থ বলেন, ‘এখানে যারা বসা, প্রধানমন্ত্রী কত বছর জেল খেটেছেন? এলজিআরডি মন্ত্রী কয়বার জেল খেটেছেন? আমির খসরু, সালাউদ্দিন বা আমি-আমরা সবাই জুলাই যোদ্ধা। কিন্তু যখনই ফ্লোর আপনাদের হাতে চলে যায় আপনারা আমাদেরকে অ্যাটাক করেন। যেন জুলাইতে আমাদের কোনো অবদান নেই।’
জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করে তাদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের যখন ব্যান্ড করা হয়েছিল আপনারা তো কোনো কথা বলেন নাই। আপনারা ভাই ৬ বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই করেছি। অথচ এখন আপনারা আমাদেরকে লগারহেডসে নিয়ে যাচ্ছেন, এতে দেশবাসী বিভ্রান্ত।’
গণভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পার্থ বলেন, ‘আপনারা গণভোটে চারটা কথা বলেছেন। একটা ভোটারের কাছে যদি আমি জিজ্ঞেস করি আমি একটাতে ভোট দিতে চাই না আমি কী করব? না-তে ভোট দিব? সেই জবাব নেই। আপনি আমাকে বাধ্য করেছেন। এই আদেশে মাত্র চারটা বিষয়ে গণভোট করেছেন, বাকি প্রোভিশনগুলো কোথায়? তার মানে আপনারা সবই জানতেন।’
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই রেভোলিউশনকে আমরা শ্রদ্ধা করি। ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি। সংবিধান কেন ছিঁড়ে ফেলে দেব? আমি পরিবর্তন করতে পারি, কিন্তু এটাকে ছুড়ে ফেলার দরকার কী? আপনারা জেন-জি কে রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়ে যাবেন না।’
বক্তব্যের শেষে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ যখন শহীদ হয়েছে, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও শহীদ হয়েছে। কন্ট্রিবিউশন কারও কম না। আপনারা সারাজীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে লাস্টে এসে বলছেন শরিয়াহ আইন চাই না। আপনারা তো ভোটের জন্য এসব করেছেন। সংবিধানটাকেও আমরা রেসপেক্ট করি, জুলাই সনদকেও আমরা রেসপেক্ট করি। যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে কেউ স্ট্যান্ড করে, আমি আন্দালিব রহমান পার্থ তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলব। তবে সিস্টেম ডিক্টেট করবেন না।’


