আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আদিবাসী নারীদের অধিকার রক্ষা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আজও আদিবাসী নারীরা কাঠামোগত বৈষম্য, সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় অবহেলার শিকার হচ্ছেন।
বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি চন্দ্রিকা চাকমার সভাপতিত্বে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কুর্নিকোভা চাকমার সঞ্চালনায় সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য লুনা নূর, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বারৈ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক মেইনথিন প্রমীলা, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী ত্রিপুরা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রাশেদা রওনক খান।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে মনিরা ত্রিপুরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আদিবাসী নারীদের বীরত্বগাথা স্মরণ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগরের সভাপতি কনেজ চাকমা বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যমুক্ত সমাজের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। ২০০১ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘অপারেশন উত্তরণ’-এর মাধ্যমে সেনাশাসন জারি রাখার ফলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নারী ও শিশুরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্র আজও আদিবাসী নারীদের জন্য নিরাপদ আবাহন নিশ্চিত করতে পারেনি।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বারৈ বলেন, ১৯৫২ থেকে ২০২৪—প্রতিটি গণআন্দোলনে নারীরা শহীদ হলেও রাষ্ট্র আজও তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। তিনি বলেন, বম নারীরা আজও কারাগারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য লুনা নূর বলেন, আদিবাসী নারীরা প্রান্তিকতারও শেষ সীমায় অবস্থান করছেন। অসাম্প্রদায়িক ও বহুত্ববাদের প্রতিশ্রুতি কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেনি।
অন্যদিকে ফাল্গুনী ত্রিপুরা অভিযোগ করেন, আদিবাসী নারীদের ওপর সহিংসতার মূল কারণ হলো ভূমি। ভূমি দখলকে কেন্দ্র করেই ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে, রাষ্ট্র যার একটিরও সঠিক বিচার করতে পারেনি।


