রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি বাসায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভাঙচুর ও টাকা লুটপাটের চেষ্টার অভিযোগে এলাকাবাসীর গণপিটুনির শিকার এক যুবক পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন।
শনিবার বিকালে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত যুবকের নাম জাহিদ (৩৮)। তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার মহেশখালী গ্রামের বাসিন্দা এবং শ্যামলী হাউজিং ২য় প্রকল্প এলাকার ফার্ম গলিতে থাকতেন। ময়নাতদন্তের জন্য রাতে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বেলা ১২টার দিকে দুটি চাপাতি নিয়ে একই গলির খোরশেদ নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ঢোকেন জাহিদ। সেখানে ঘরের আসবাবপত্র ও ফার্নিচার কুপিয়ে নষ্ট করার পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এক পর্যায়ে বাড়ির মালিক খোরশেদকে অস্ত্র নিয়ে তাড়া করে ঘর থেকে ৩০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে জাহিদের বিরুদ্ধে।
লুটপাটের বিষয়টি টের পেয়ে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে জাহিদকে আটকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে আদাবর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আদাবর থানায় করা একটি ডাকাতি মামলায় জাহিদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তবে আদালতের হাজতখানায় ঢোকানোর আগেই তিনি পুনরায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়ামিন সরকার জানান, নিহত জাহিদ মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময়ে এলাকার মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মামলাও রয়েছে।
জাহিদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। গণপিটুনি ও হেফাজতে মৃত্যুর এই পুরো বিষয়টি বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

