আদানির বকেয়া মেটাচ্ছে বাংলাদেশ, কাটছে বিদ্যুৎ আমদানির সংকট  

আদানির বকেয়া মেটাচ্ছে বাংলাদেশ, কাটছে বিদ্যুৎ আমদানির সংকট   
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ আদানি গ্রুপের বকেয়া টাকা পরিশোধ করছে, ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ১,৬০০ মেগাওয়াট গোড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ নিচ্ছে। একই সাথে দুই দেশের মধ্যে বাকি থাকা ছোটখাটো সমস্যাগুলোও দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। এ খবর দিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দি হিন্দু।

আদানি পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল সারদানা জানান, অতীতে টাকা পরিশোধে কিছুটা দেরি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সাথে বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তিটি পুরোপুরি সচল ও স্বাভাবিক রয়েছে।

কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি খুব ভালো চলছে। বাংলাদেশ আগের মতোই বিদ্যুৎ নিচ্ছে এবং আমাদের বাণিজ্যিক চুক্তিটি এখনো কার্যকর রয়েছে।’

গোড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে হিসাব-নিকাশ মেলানোর যে চেষ্টা চলছে, তার মাঝেই তিনি এই কথা জানালেন।

অনিল সারদানা বলেন, বর্তমানে সালিশি আলোচনার মাধ্যমে যে বিষয়গুলো সমাধান করার চেষ্টা চলছে, তা কেবল আমদানি করা কয়লার দাম ও তার হিসাবের কিছু নিয়মের সাথে সম্পর্কিত। এর সাথে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, ‘দুই পক্ষের এই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিপিডিবি একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়টি মেনে নিয়েছে। এই সমস্যাগুলো খুবই ছোট এবং আমরা নিশ্চিত যে দ্রুতই এর সমাধান হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন

আদানি পাওয়ারের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই পক্ষের এই হিসাবের অমিল দূর করতে সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক সালিশি কেন্দ্রের (এসআইএসি) কাছে একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের অনুরোধ করা হয়েছিল। আদানি পাওয়ার এবং বাংলাদেশ—উভয় পক্ষই সেই বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলার জন্য নিজেদের প্রতিনিধি ঠিক করেছে এবং এই সংক্রান্ত চুক্তিও সই হয়ে গেছে।

বকেয়া টাকা আদায়

বাংলাদেশ থেকে ঠিক কত টাকা পাওনা আছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব না দিলেও আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাওয়ার হার অনেক বেড়েছে। সারদানা বলেন, ‘বাংলাদেশ আগের অনেক বকেয়া টাকা পরিশোধ করেছে এবং তারা কোনো টাকা আটকে রাখতে চায় না। আমি শেয়ারহোল্ডারদের জানাতে চাই, দেরি হওয়ার কারণে যে অতিরিক্ত সারচার্জ হয়েছিল, বাংলাদেশ সেটিও মেনে নিয়েছে। অর্থাৎ, টাকা দিতে দেরি হওয়ার কারণে আমাদের যে বাড়তি খরচ হচ্ছে, তারা সেটিও দিচ্ছে। যেভাবে তারা পুরোনো বকেয়া শোধ করছে, তাতেই তাদের সদিচ্ছা স্পষ্ট।’

বার্ষিক প্রতিবেদনে আদানি পাওয়ার উল্লেখ করেছে, চলতি অর্থবছরে তারা সারচার্জসহ বাংলাদেশের কাছ থেকে পাওনা টাকার একটি বড় অংশ উদ্ধার করেছে। বাকি টাকাও সময়মতো পেয়ে যাবে বলে আশা করছে।

ভারতের সাথে অন্য দেশের বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গোড্ডা প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট রয়েছে, যার পুরো বিদ্যুৎই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে পাঠানো হয়। ভারতের আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য নীতিমালার অধীনে তৈরি এটিই প্রথম প্রকল্প। ঝাড়খণ্ডের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি সেই রাজ্যের সবচেয়ে বড় বেসরকারি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প।

আদানি পাওয়ার আরও জানিয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে ভারতীয় গ্রিডের সাথেও যুক্ত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের সাথে আলোচনার পর বকেয়া টাকার সিংহভাগই আদায় করা সম্ভব হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad