বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমনওয়েলথ ল’য়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিএলএ) এবং ল’এশিয়া।
গত সোমবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন দুটি উল্লেখ করে, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন কোনো শুনানির সুযোগ না দিয়ে, লিখিত কোনো কারণ না দেখিয়ে কিংবা আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বেশ কয়েকজন যোগ্য আইনজীবীকে মনোনয়ন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে এই প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। কাউকে কাউকে “ফ্যাসিস্টদের সহযোগী” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করার পর আপিল করার মতো কোনো পথও তাদের জন্য রাখা হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে বর্তমানে নিষিদ্ধ একটি দলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ২০০ জন আইনজীবী ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩টি বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এবং কর্মরত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করার মতো আশঙ্কাজনক খবর সিএলএ এবং ল’এশিয়া’র কাছে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব মামলার মধ্যে কিছু মামলা সম্পূর্ণ কাল্পনিক বা সাজানো। এর পাশাপাশি যাদের লক্ষ্য করে এই মামলাগুলো করা হয়েছে, তারা ফৌজদারি হুমকি ও হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন।
আইন পেশার সাথে জড়িতদের হয়রানি:
বিবৃতিতে ১৯৯০ সালের ‘আইনজীবীদের ভূমিকা সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালা’র কথা স্মরণ করিয়ে দেয় সংগঠন দুটি। এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, আইনজীবীরা যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, হয়রানি বা অন্যায্য হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাদের পেশাগত কাজ পরিচালনা করতে পারেন, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
এই নীতিমালা অনুযায়ী, স্বীকৃত পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো আইনজীবী কোনো ধরনের মামলা বা প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি হবেন না। একই সঙ্গে তারা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার পাবেন এবং কোনো ধরনের বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাদের নিজস্ব পেশাদার সংগঠন গঠন ও পরিচালনা করার অধিকার রাখবেন, যার নির্বাহী কমিটি স্বাধীনভাবে নির্বাচিত হবে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সিএলএ এবং ল’এশিয়া বাংলাদেশ সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে সব বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন যেন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।
সংগঠন দু’টি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা অতীতের কোনো সম্পর্কের কারণে বৈষম্য না করে সব যোগ্য আইনজীবীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলে তার পেছনে লিখিত কারণ দর্শানো এবং আপিল করার স্পষ্ট সুযোগ রাখার দাবি জানিয়েছে তারা।
ল’এশিয়া’র সভাপতি ইয়াপ তিয়ং লিয়াং এবং সিএলএ’র সভাপতি স্টিভেন থিরু স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত কাল্পনিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো অবিলম্বে পর্যালোচনা করার দাবি জানানো হয়।
সংগঠন দুটি বাংলাদেশে আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের মূল ভিত্তি হিসেবে আইন পেশার স্বাধীনতার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। সেই সাথে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।


