‘অলৌকিকভাবে’ প্রতিমন্ত্রীর ২ সন্তান ও পৈতৃক বাড়ির নামে ৩ ইউনিয়ন

‘অলৌকিকভাবে’ প্রতিমন্ত্রীর ২ সন্তান ও পৈতৃক বাড়ির নামে ৩ ইউনিয়ন
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকায় তার দুই ছেলে ও পৈতৃক বাড়ির নামে তিনটি নতুন ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নাম মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত। আর তার পৈতৃক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ি’।

সংসদের বৈঠকে সোমবার বিরোধী দল অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিমন্ত্রীর দাবি, এটি কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিষয় নয়, বরং ‘অলৌকিকভাবে’ তার ছেলেদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের এমপি মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকার শিবগঞ্জ উপজেলা ভেঙে গত মাসে পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘মোকামতলা’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করা হয়। এরপর গত রোববার বগুড়া জেলা প্রশাসকের সই করা এক গেজেটে এই উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়ন ভেঙে ‘সীমান্ত’ এবং দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে ‘দিগন্ত’ ইউনিয়ন করা হয়।

এ ছাড়া অন্য অংশগুলো নিয়ে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা গঠন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নামে ‘মীরবাড়ি’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে।

অথচ ইউনিয়ন পরিষদ আইন-২০০৯ এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী, নতুন ইউনিয়নের নাম নির্ধারণের এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের হলেও আইনে স্পষ্ট বলা আছে–কোনো ব্যক্তির নামে ইউনিয়নের নামকরণ করা যাবে না।

আইনি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের নামে কীভাবে তিনটি ইউনিয়ন হলো, গণমাধ্যমের এমন প্রতিবেদনের সূত্র ধরে মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে সম্পূরক বাজেট আলোচনায় বিষয়টি সংসদে তোলেন বিরোধী দলের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী ওনার বংশের নামে মীরবাড়ি এবং দুই সন্তানের নামে দিগন্ত ও সীমান্ত ইউনিয়নের নামকরণ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী নিজেই নাকচ করেছেন। অথচ বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সেই একই সংস্কৃতি এখন মন্ত্রীদের হাত ধরে আবার ফিরছে।’

বিরতির পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের অনুমতি নিয়ে ফ্লোর পেয়ে নিজের পক্ষে কৈফিয়ত দেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। তিনি দাবি করেন, জেলা প্রশাসক ছেলেদের নামে নয়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই নামকরণ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা, ‘সৈয়দপুর ইউনিয়নটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় তার নাম দেওয়া হয়েছে সীমান্ত। আর দেউলী ইউনিয়নটি গাইবান্ধা জেলার সীমান্তবর্তী এবং মূল এলাকা থেকে দূরবর্তী হওয়ায় সেটির নাম দেওয়া হয়েছে দিগন্ত। এখানে দেউলী ইউনিয়নের নাম বদলানো হয়নি, বরং সেটি ভেঙে নতুন ইউনিয়ন করা হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম যে ১২টি প্রতিষ্ঠানের মালিক, তার মধ্যে দুটির নাম ‘মীর সীমান্ত ফিলিং স্টেশন’ এবং ‘মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি’।

সংসদে এই সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অলৌকিকভাবে নাম মিলে গেছে ঠিক, কিন্তু সন্তানদের নাম তো মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। আমার ইচ্ছা থাকলে জেলা প্রশাসককে বলতাম আগে মীর শব্দটা রাখতে। কিন্তু নতুন নামের আগে তো মীর নেই।’

প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে সমর্থন জানান। শাহে আলম তখন বলেন, ‘আল্লাহ বাঁচাইছে যে তিনি বলেননি বিজিবির সীমান্ত ব্যাংক, সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন কিংবা গুলশানের দিগন্ত টাওয়ারও আমার।’

সরকারি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দপুর ইউনিয়নের ১১টি মৌজা নিয়ে গঠিত নতুন ‘সীমান্ত’ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭ জন এবং দেউলী ইউনিয়নের ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad