অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ডেনিশ রাষ্ট্রদূতের পাঁচ প্রস্তাব

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ডেনিশ রাষ্ট্রদূতের পাঁচ প্রস্তাব
Advertisement
Advertisement

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে শুধু কম উৎপাদন খরচের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এর পাশাপাশি টেকসই পরিবেশ, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার ওপর জোর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনিশ রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার।

সোমবার রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ‘এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ (ইএসজি) ড্যাশবোর্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ এবং ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার জন্য পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন ডেনিশ রাষ্ট্রদূত। এগুলো হলো— বাজারে সুবিধাজনক বাণিজ্য প্রবেশাধিকার, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, পণ্য ও বাজারের সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সংস্কারে সহায়তা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সাম্প্রতিক তথ্য স্পষ্ট করে দেয় দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এর তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি থমকে গিয়েছিল। এসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হয়তো কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হয়েছে।  কিন্তু বাংলাদেশ শুধু কম খরচের সুবিধার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারবে না। আন্তর্জাতিক বাজার ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য পরিবেশগত টেকসই মানদণ্ড, কাজের স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মানা অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আগের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি খাতের ওপর বাড়তি চাপের মতো নানা সমস্যা দেশজুড়ে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক নিরাপত্তামূলক কাজ করছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, শুধু কম দামের সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ আর বেশিদিন বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে পারবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টিকে থাকার স্বার্থেই পরিবেশের মান রক্ষা করা জরুরি।

তিনি  জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের কারণে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে গত আট মাসে সরকারকে বাড়তি ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad