নতুন এফএসআরইউ তৈরিতে যুক্ত হচ্ছে কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র: অর্থমন্ত্রী

নতুন এফএসআরইউ তৈরিতে যুক্ত হচ্ছে কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের তিন থেকে চার নতুন এফএসআরইউ (ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরকারী ইউনিট) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এফএসআরইউ চালু করতে যুক্ত হচ্ছেন।

সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে ফোরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্বালানি নিয়ে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

দেশের জ্বালানি খাত ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে সরকারের রোডম্যাপ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও এলএনজি খালাস করার সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। অর্থাৎ সেখানে জ্বালানি হাব গড়ে তোলা হবে।

আমির খসরু বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বিগত সরকারের আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশে ডলার পাচারের মতো গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

‘সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ কর ছাড় এবং প্রণোদনা সুবিধা প্রদান করেছে। বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রুফটপ সোলার প্যানেল ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক শুল্কের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে সরকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়’, বলেন অর্থমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

তিনি জানান, অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাপেক্সকে শক্তিশালী করে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আমির খসরু বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে, যাতে নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতি দূর হয়। ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠন এবং ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ নিশ্চিত করতে নীতিমুক্তকরণ (ডি-রেগুলেশন) জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হংকং পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য ডেডিকেটেড ইকুইটি ফান্ড খোলা হচ্ছে। এ ছাড়া ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে পুঁজিমার্কেট ও বন্ডে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আগামীতে একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি খাত পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে বলে আশা করেন মন্ত্রী। এতে অর্থনীতি স্বাভাবিক গতি পাবে এবং একসময় দ্রুত ত্বরান্বিত হবে বলেও মত দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিস শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক, এফআইসিসিআই-এর প্রতিনিধিরা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad