যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের কাছে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর বন্দুক হামলার ঘটনায় বিদেশিদের আশ্রয় সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের পরিচালক জোসেফ এডলো তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার এক্স পোস্টে তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে প্রত্যেক আশ্রয়প্রার্থীকে সর্বোচ্চ মাত্রায় যাচাই-বাছাই ও স্ক্রিনিং করা হয়েছে, ততক্ষণ আমরা কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত থাকব।’
বিবিসির খবরে বলা হয়, দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীনে থাকা সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে বলা হয়, আবেদনকারীর জাতীয়তা যাই হোক না কেন, সংস্থায় জমা পড়া কোনো আশ্রয় আবেদন তারা অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান বা বন্ধ করবেন না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সংস্থার কর্মকর্তারা কেবল যাচাই-বাছাই এবং স্ক্রিনিং পর্যন্ত কাজ করবেন তবে আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পাওয়া নির্দিষ্ট কর্মকর্তা। তাদের উদ্দেশে উল্লেখ করা হয়, ‘যখন আপনি সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছাবেন, থামুন এবং অপেক্ষা করুন।’
এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক এক্স পোস্টে জানান, ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন তিনি স্থায়ীভাবে স্থগিত করবেন।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ‘বুধবারের ওই হামলায় গুলিবিদ্ধ দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের একজন মারা গেছেন।’ হামলাকারী হিসেবে একজন আফগান নাগরিককে দায়ী করছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, এ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করে নিজের অভিবাসন বিরোধী অবস্থানকে আরও জোরালো করলেন ট্রাম্প। অবশ্য তিনি কোন কোন দেশকে তার পরিকল্পনার আওতায় ফেলবেন তা নিশ্চিত করেননি।
অভিবাসন স্থগিতের পাশপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের গণহারে বহিষ্কার, বার্ষিক শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সব শিশুকে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। এরইমধ্যে ট্রাম্প ও তার অভিবাসন আইনের বিরোধিতায় সরব হয়েছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা।
এদিকে আফগানিস্তানের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের ইমিগ্রেশন আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রসাশন। দেশটির অভিবাসন সংস্থা তাদের ‘নিরাপত্তা ও যাচাই–বাছাই প্রটোকল’ পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পরোক্ষভাবে এর পেছনে বুধবারের হামলার ঘটনাকেই মূল কারণ মনে করছেন আশ্রয়প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানায়, তারা আরও ১৯টি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করা ব্যক্তিদের জন্য জারি করা গ্রিন কার্ডগুলো নতুন করে পরীক্ষা করবে। এসব দেশের তালিকায় রয়েছে, আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া এবং ভেনেজুয়েলা। তবে বাকি কোন কোন দেশ তালিকায় যুক্ত হবে কিংবা পরীক্ষার মানদণ্ডগুলো কী তা উল্লেখ করেনি হোয়াইট হাউস।


