১৫ বছর পর আসছে কোয়াব নির্বাচন

১৫ বছর পর আসছে কোয়াব নির্বাচন
সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের অ্যাড-হক কমিটির সদস্য ও ক্রিকেটাররা। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

গত ৩০ জুলাই  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রিকেটারের সূত্রে জানা গিয়েছিল ‘ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ’-এর (কোয়াব) নির্বাচন হতে যাচ্ছে আসন্ন সেপ্টেম্বরে। রবিবার কোয়াবের অ্যাড-হক কমিটি ও ক্রিকেটারদের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহবায়ক সেলিম শাহেদ জানান  আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ১৫ বছর পর হতে যাচ্ছে কোয়াবের নির্বাচন।

লম্বা সময় ধরে কোয়াবের কোনো নির্বাচন নেই। সাবেক অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয় ১৫ বছর ছিলেন  সভাপতির দায়িত্বে, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন দেবব্রত পাল দেবু। তাদের দায়িত্বকালে বেশ কয়েক দফায় নির্বাচনের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা আর আলোর মুখ দেখেনি। তবে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পদত্যাগ করেন এই দুজন।  যদিও পরবর্তীতে চলতি বছরে মার্চে ঘোষিত ১৩ সদস্যের এড-হক কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান দেবব্রত।

কোয়াবের অ্যাড-হক কমিটির দায়িত্ব ছিল গঠনতন্ত্র সংশোধন ও নির্বাচন। সোমবার কোয়াবের বৈঠকের পর জানা গেছে, বিলুপ্ত হচ্ছে সাধারণ সম্পাদক পদ। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে গঠিত হতে যাওয়া কমিটিতে থাকবে এক জন করে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি ও আট জন কার্যনির্বাহী সদস্য।

বৈঠক শেষে অ্যাড-হক কমিটির আহবায়ক সেলিম শাহেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন , ‘আমাদের আজকে একটা মিটিং ছিল, যেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম আমাদের ইলেকশন কবে হবে এবং ইলেকশনের প্রসেসটা কী হবে। তো আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখে ইনশাআল্লাহ ইলেকশনের ডেট ফাইনাল করেছি এবং ৪ তারিখের মধ্যে আমাদের বাকি যে সমস্ত ইলেকশন রিলেটেড কাজ সেগুলো কমপ্লিট করার চেষ্টা করবো। অর্থাৎ মেম্বারশিপ, প্লাস নমিনেশন ফর্ম কেনা, নমিনেশন ফর্ম জমা দেওয়া, এই সমস্ত জিনিসপত্র আমরা কমপ্লিট করার চেষ্টা করবো এবং ৪ তারিখে, অর্থাৎ ৪ সেপ্টেম্বর আমরা ইলেকশনের জন্য প্রসিড করব।’

আরও পড়ুন

ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতিও সেরে রাখছে কোয়াব। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু। সদস্য হিসেবে আছেন নাসির আহমেদ নাসু ও হাবিবুল বাশার সুমন।

এত দিন স্থায়ী কোনো কার্যালয় না থাকায় মাঠ পর্যায়ে সেভাবে সক্রিয় হতে পারেনি কোয়াব। তবে এবার সেই অভাব ঘুচতে চলেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আবেদনের প্রেক্ষিতে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে একটি কার্যালয়ের অনুমোদন পেয়েছে কোয়ান। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেলিম শাহেদ আরো বলেন, ‘এই প্রথম আমরা আমাদের স্থায়ী কোনও ঠিকানা পেয়েছি। আমরা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাই, এনএসসিকে ধন্যবাদ জানাই এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকেও ধন্যবাদ জানাই। তাদের সকলের সহযোগিতা আমরা একটা স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছি।’

কোয়াবের সদস্য পদ প্রাপ্তিতেও কিছু পরিবর্তন এনেছে অ্যাড-হক কমিটি। তিন ক্যাটাগরিতে সদস্য হতে পারবেন ক্রিকেটাররা। আজীবন সদস্য পদ, স্থায়ী সদস্য পদ ও সহযোগী সদস্য পদ। আজীবন সদস্য হতে চাইলে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটারদের দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা। ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত খেলোয়াড়দের জন্য ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ টাকা, যেখানে তাদের কোনো বার্ষিক ফি দিতে হবে না। থাকবে পূর্ণ ভোটাধিকার। স্থায়ী সদস্য হিসেবে জাতীয় দল, প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ও ঢাকা লিগে খেলা যেকোনো ক্রিকেটার ৫ হাজার টাকা দিয়ে সদস্য হতে পারবেন। এদের জন্য বার্ষিক ফিও নির্ধারিত রয়েছে। অন্যদিকে সহযোগী সদস্যপদের জন্য নির্ধারিত ফি ২ হাজার টাকা এবং বার্ষিক ফি ১ হাজার ২০০ টাকা। তবে এই ক্যাটাগরির সদস্যদের ভোটাধিকার থাকবে না।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর