১০ দিন ধরে ভোগান্তি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে

১০ দিন ধরে ভোগান্তি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে
মহাসড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

গত ১০ দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে তীব্র যানজটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়া বাস, ট্রাক ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন ঢাকামূখী লেনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে আটকে রয়েছে। এতে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সাধারণ যাত্রীরা।

এর আগে, মহাসড়কে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ যানজট এখনো অব্যাহত রয়েছে। সড়ক সংস্কারকাজকে কেন্দ্র করে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে।

মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংস্কারকাজ, ভাঙাচোরা সড়ক ও খানাখন্দের কারণে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। এর সঙ্গে বৃষ্টি হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও সংস্কারকাজের কারণে সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।

ট্রাকচালক আরফান হোসেন বলেন, ‘ভোরে চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়েছি। স্বাভাবিক সময়ে এই পথ অনেক আগেই পার হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কুমিল্লায় এসে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছি। সামনে গাড়ির লম্বা সারি, একটুও ঠিকমতো এগোতে পারছি না। সড়কের অবস্থা খারাপ, আবার বিভিন্ন জায়গায় সংস্কারকাজ চলছে। এতে সময় ও জ্বালানি দুটোই নষ্ট হচ্ছে।’

বাসচালক ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছি। ভোরে রওনা হয়েছি, কিন্তু কুমিল্লা পার হতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। যাত্রীরা বারবার জানতে চাইছেন কখন গন্তব্যে পৌঁছাবেন। কিন্তু চালক হিসেবে আমাদেরও কিছু করার নেই। রাস্তার অবস্থা ও যানজটের কারণে গাড়ি চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আরও পড়ুন

পিকআপচালক মনির হোসেন বলেন, ‘মহাসড়কের অনেক জায়গায় ভাঙাচোরা। কোথাও গর্ত, কোথাও আবার সংস্কারকাজের কারণে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। একটি গাড়ি একটু ধীরে চললেই পেছনে লাইন লেগে যাচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন চলাচল করা খুব কষ্টকর। দ্রুত সড়ক সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করা দরকার।’

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বাসের যাত্রী সানজিদা বলেন, ‘ভোরে বাসে উঠেছি। ভেবেছিলাম সময়মতো ঢাকায় পৌঁছাব। কিন্তু কুমিল্লায় এসে দীর্ঘ সময় ধরে বসে আছি। বাসের মধ্যে গরমে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা খুব কষ্ট পাচ্ছেন। কখন যানজট ছাড়বে, সেটিও কেউ বলতে পারছেন না।’

আরেক যাত্রী রুবাইয়া বেগম বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে রওনা হওয়ার পর এতটা দুর্ভোগ হবে ভাবিনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের মধ্যে বসে থাকতে হচ্ছে। রাস্তার অবস্থা খারাপ, আবার যানজটও রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য এই দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থাকা খুবই কষ্টকর।’

চালক ও যাত্রীরা বলছেন, মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা গেলে যানজট অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা অংশগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ হবে। তবে এর মধ্যে বৃষ্টি হলে হয়তো সময়টা আরও বাড়তে পারে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর