সুজানগরে মাদকবিরোধী সভা ঘিরে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ

সুজানগরে মাদকবিরোধী সভা ঘিরে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ
Advertisement
Advertisement

‎পাবনার সুজানগরে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এস এম আফতাব আহমেদ নামে এক ছাত্রদল কর্মী আহত হয়েছে।

‎সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাবনার সুজানগর পৌরসভার মানিকদীর তিনমাথার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

‎ঘটনার পর রাতে আনিসুর রহমান সংগ্রাম নামে এক ব্যক্তি সুজানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

‎অভিযোগে বলা হয়, মানিকদীর এলাকাকে মাদকমুক্ত করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সোমবার বিকালে একটি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সভায় হামলা চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আফতাব আহমেদ নামের ওই ছাত্রদল কর্মী আহত হন। তাকে সুজানগর উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

‎হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মানিকদীর গ্রামের কালাম শেখের ছেলে সুজাউদ্দিন সুজাকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে মাদক সেবনের অভিযোগে সুজানগর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বাবুকে আটক করে ডোপ টেস্টে পাঠায় পুলিশ। ‎ডোপ টেস্টে তার শরীরে নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেন।

‎এর পর থেকেই বাবুর অনুসারীদের সঙ্গে এলাকার মাদকবিরোধী একটি পক্ষের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যায় মানিকদীর মোড় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎মাদকবিরোধী পক্ষের দাবি, বাবুর অনুসারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। অন্যদিকে, বাবুর অনুসারীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, মাদকবিরোধী পক্ষই সশস্ত্র অবস্থায় তাদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।

‎আহত ছাত্রদল কর্মী আফতাব আহমেদ বলেন, ‘শফিউল আলম বাবুকে আটকের পর থেকে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যায় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় অতর্কিত হামলার শিকার হই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

এ বিষয়ে সুজানগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লালবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর