পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সামনে নীতি সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের। দুটি পৃথক বৈঠক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে গভর্নর জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলোর তহবিল তছরুপের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করবে সরকার।
একই দিনে আরেক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে সুদের হার কমানো নিয়ে। গভর্নর চাচ্ছেন নীতি সুদের হার ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে। এ নিয়ে বুধবার মুদ্রা নীতি কমিটির একটি সভা হওয়ার কথা ছিল। পরে এই সভা ঈদুল ফিতরের পরে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকগুলো সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে ৫ ব্যাংক সম্পর্কে গভর্নর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ব্যাংকটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া পাঁচ ব্যাংকের আওতায় যেসব কারখানার অস্তিত্ব রয়েছে তা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। এসব কারখানা যেন উৎপাদনে আসতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিদেশি বকেয়া থাকলে তা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে, গত রোববার ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে একই রকম বার্তা দেন গভর্নর। সেখানে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে চলমান সব সংস্কার অব্যাহত থাকবে। নতুন গভর্নর কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করবেন না।
গভর্নর এমডিদের জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের জন্য নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। আর এ জন্য রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে বন্ধ হওয়া কারখানা সচলে নীতি সহায়তার কথা বলেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যাংকের এমডিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান গভর্নর।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে। নতুন ব্যাংকটি মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।


