সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কবর দেওয়া হবে: চিফ হুইপ

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কবর দেওয়া হবে: চিফ হুইপ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিলোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি।

তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় বর্তমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এই অনুচ্ছেদের ‘কবর’ দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে সংসদের টানেলে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।

সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ সার্বিক নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করে জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

সংবিধান সংশোধন না করে তড়িঘড়ি করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে—বিরোধীদের এমন সমালোচনার জবাবে চিফ হুইপ বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে, নির্বাচন কমিশন গঠন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও আসন পুনর্নির্ধারণসহ (ডেলিমিটেশন) সব কার্যক্রমই বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে শপথ নিয়েছেন এবং সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। ফলে বর্তমান কাঠামোয় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় সেটি মেনে চলা ছাড়া উপায় ছিল না।

আরও পড়ুন

নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘আমরা চাই আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করে এই ৭০ অনুচ্ছেদের কবর দেওয়া হোক। ভবিষ্যতে যেন ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মুক্ত পরিবেশে রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়।’

গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ ও সংসদীয় শিষ্টাচারের গুরুত্ব তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘গত ১৭ বছর দেশের মানুষ ভোট দেওয়া কিংবা সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত আমেজ থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিরা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন।’

নির্বাচনে হার-জিতের বিষয়টি জেনেও বিরোধী দলের অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন তিনি। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিজয়ী প্রার্থীকে পরাজিত প্রার্থীর অভিনন্দন জানানো রাজনীতিতে সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসার ইঙ্গিত।

তিনি বলেন, স্মুথ ট্রানজিশন বা ক্ষমতার স্বাভাবিক হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে।

ছয় এমপির ভোট না দেওয়ার ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট না দেওয়ার বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, অসুস্থতা ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণে মোট ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারেননি।

অনুপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বিএনপির তিনজন হলেন—চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাস, চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন কামাল পাশা এবং যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন ওসমান ফারুক। মির্জা আব্বাস এ বিষয়ে পূর্বানুমতি নিয়েছিলেন বলেও জানান চিফ হুইপ।

এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং গাজী নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad