অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ (এনসিপি) অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন অংশগ্রহণের জন্য শর্ত দিয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই উদ্যোগকে ‘একটি অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করে দলের উদার গণতন্ত্রে আস্থার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার পরিবর্তন অবশ্যই নির্বাচনের মাধ্যমেই হতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই দেশের দায়িত্ব পালন এবং সংকট মোকাবিলার বৈধ অধিকার রাখে।’
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ভোটাধিকার আদায়ে জীবন দিয়েছে। আমি আশা করি নির্বাচন কমিশন দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যেখানে সকলের কাছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে।’
এদিকে, বুধবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদেরকে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাত দফা দাবি তুলে ধরেছে। এর মধ্যে ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি (পিআর)’ পদ্ধতির প্রবর্তন ও জুলাই চার্টার ঘোষণাও রয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসান মাহবুব জোবায়ের বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সাত দফা দাবি, বিশেষ করে সংখ্যানুপাতিক ভোটব্যবস্থা এবং জুলাই চার্টার যদি সরকার মেনে নেয়, তাহলে আমরা যেকোনো সময় নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত।’
এদিকে, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক-উস-সালেহীনও জুলাই চার্টারের ঘোষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
টাইমস অব বাংলাদেশ-কে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি চলতে পারে, তবে জুলাই চার্টার ঘোষণা না হলে সেই সব প্রস্তুতি বৃথা যাবে।’
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ’এই কমিশন পুনর্গঠন না হলে আমরা মনে করি না যে নির্বাচনে সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
এনসিপি পূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া উচিত বলে যে অবস্থান নিয়েছিল, সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারের এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। কারণ, অন্যান্য দলও একই দাবি তুলেছে।’
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পাঁচটি তত্ত্বাবধায়ক ও সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে।
এই কমিটিগুলো হলো-মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, নির্বাচন আইন ও বিধি বাস্তবায়ন এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম তদারকিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবে।


