ধর্ষণ মামলায় ফাদার প্রদীপের খালাস, আপিলে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

ধর্ষণ মামলায় ফাদার প্রদীপের খালাস, আপিলে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজশাহীর তানোর উপজেলার বহুল আলোচিত এক কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর রায় দিয়েছে আদালত। মামলার একমাত্র আসামি তৎকালীন ধর্মযাজক ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালত-১। তবে এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ।

রোববার বিকালে ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শরনিম আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই স্বপন হাঁসদা বলেন, এ রায়ে তাদের পরিবার সন্তুষ্ট নয়। তার দাবি, তার বোনের প্রতি সংঘটিত অন্যায়ের ন্যায়বিচার তারা পাননি। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ছয় বছরের বিচারপ্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সময়ে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাওয়ায় বিচারকাজ ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় কিছু নথি যথাসময়ে আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি একজন আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে বিচারপ্রক্রিয়ায় হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিতালী বলেন, আসামিকে খালাস দেওয়ায় ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে। তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আদালত কোন যুক্তিতে এ রায় দিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম বলেন, শুরু থেকেই তাদের দাবি ছিল, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একজন ধর্মযাজককে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্য নথি উপস্থাপন করতে না পারায় আদালত আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে আপিল করতে পারে, সেটি তাদের আইনগত অধিকার।

রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী জানান, দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি লড়াই শেষে তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন। এ সময়ে তাকে অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আদালতের রায়কে তিনি ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা মাহালীপাড়া এলাকার এক কিশোরী বাড়ির পাশের সাধুজন মেরী গির্জার কাছে ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন তার বড় ভাই স্বপন হাঁসদা তানোর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গির্জা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ওই রাতেই তার বড় ভাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তৎকালীন ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে একমাত্র আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, কিশোরীকে গির্জার একটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছিল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস ন্যাশনাল
টাইমস ন্যাশনাল

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর