১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তারা এ পুরস্কার পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংস্কৃতি ক্ষেত্রে এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন টেলিভিশন উপস্থাপক, লেখক ও প্রযোজক হানিফ সংকেত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকমহলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সামাজিক সচেতনতা ও বিনোদনের সমন্বয়ে নির্মিত এ অনুষ্ঠানটি দেশের টেলিভিশন অঙ্গনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
তিনি পুরস্কার প্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি পুরস্কারটি তার সকল দর্শকদের উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, ‘এই অর্জন আমার একার নয়- যাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে এই অর্জন তাদের সবার। আজকের এই আনন্দের দিনে আমি তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই পুরস্কার আমি আমার লক্ষ-কোটি দর্শকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সুস্থ সংস্কৃতিই পারে একটি সমাজকে আলোকিত করতে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে। আমৃত্যু আমি সুস্থ সংস্কৃতির চর্চায় দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই। অতীতেও আমি যেমন দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাব। এই পুরস্কার আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে আরও উৎসাহিত করবে।‘
হানিফ সংকেত ছাড়াও সংস্কৃতি অঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন গুণী সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ। চলচ্চিত্রের গানে তার কণ্ঠ পেয়েছিল ব্যাপক জনপ্রিয়তা। মাধুর্যময় কণ্ঠ ও শাস্ত্রীয় সংগীতে দখলের জন্য তিনি বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন। তিনি উপমহাদেশের কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলী খান-এর কাছে তালিম নেন।
চলচ্চিত্র তালাশ-এ প্রখ্যাত শিল্পী তালাত মাহমুদ-এর সঙ্গে কাজ করে তিনি আরও খ্যাতি অর্জন করেন। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘আমাকে পুরাতে যদি এত লাগে ভাল’, ‘যারে যাবি যদি যা’, ‘অনেক সাধের ময়না আমার’ এবং ‘ডেকোনা আমারে তুমি কাছে ডেকো না’।
১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে আসছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা এবং একটি সম্মাননাপত্র পান।


