বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো রাজনীতিবিদকে হাইকমিশনার করে পাঠাচ্ছে ভারত। তিনি দীনেশ ত্রিবেদী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রবীণ নেতা। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেই তাকে ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এমনটাই খবর দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা।
বর্তমানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। ঢাকায় প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন দীনেশ ত্রিবেদী।
আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের শীতল সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বিজেপি সরকার একজন রাজনীতিবিদকে কাজে লাগাতে চাইছে।
দীনেশ ত্রিবেদী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিক হলেও বাঙালি নন। তবে সাবলীল বাংলা বলতে পারেন, বাঙালি সংস্কৃতিতেও বেশ অভ্যস্ত। বাংলাদেশ সম্পর্কেও তার জ্ঞান গভীর। গুজরাটি বাবা-মায়ের সন্তান দীনেশের স্কুল জীবন কেটেছে হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুলে। পরের ধাপ কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। এরপর এমবিএ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
পশ্চিমবঙ্গে আশির দশকে কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতি শুরু করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর ১৯৯০ সালে যোগ দেন জনতা দলে, সেই দল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন রাজ্যসভার সদস্য। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে এই দলে যোগ দেন দীনেশ। তৃণমূল থেকে প্রথমে রাজ্যসভা সদস্য ও পরে লোকসভা সদস্য হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের জোটসঙ্গী হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছেন।
তবে ২৩ বছরের সম্পর্ক ছেদ করে ২০২১ সালে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপিতে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। এখনও এই দলের সঙ্গেই আছেন তিনি।


