তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অভিন্ন লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজিত ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘২০১১ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, শেখ হাসিনা কোন পথে এগোচ্ছেন। তখন থেকেই আমি ব্লগ, পত্রিকার কলাম, টকশো ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ বিষয়ে কথা বলেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, জুলাইয়ের আন্দোলনের অভিন্ন চাওয়া ছিল শেখ হাসিনার বিদায় এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। কারণ, তার সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া।’
আন্দোলন-পরবর্তী সময়ের নানা রাজনৈতিক ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘আন্দোলন সফল হওয়ার পর অনেকের মনে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা এসেছে। কেউ ইসলামিক রিপাবলিকের কথা বলেছেন, কেউ বিপ্লবী সরকার গঠনের কথা বলেছেন, আবার কেউ সংবিধান নতুন করে লেখার কথা বলেছেন। কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।’
জুলাই আন্দোলনের সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘অনেকে আমাকে সাহসী মনে করেন, কিন্তু আমি নিজেকে তা মনে করি না। জুলাইয়ে যখন বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি ছিল, তখন মনে হয়েছিল আন্দোলন ব্যর্থ হলে কী হতো, তা কল্পনা করাও কঠিন। কিন্তু আমি দেখেছি, মানুষ ভয় পায়নি।’
‘যারা রাস্তায় নেমেছিলেন, জীবন দিয়েছেন, তাঁরাও ভয় পাননি। এমনকি সমাজের যাদের সাধারণত আন্দোলনে দেখা যায় না, তারাও রাস্তায় নেমেছিলেন। মানুষের এই সম্মিলিত শক্তির কারণেই আন্দোলন সফল হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের দিকে এগোচ্ছি। সরকারের ভুল–ত্রুটি অবশ্যই আছে, আমিও সেগুলো নিয়ে কথা বলি। তবে আন্তরিকভাবে তারা কাজ করার চেষ্টা করছে।’
নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে। সেই নির্বাচনে যেকোনো দল জয়ী হতে পারে, আমরাও হারতে পারি। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটা টিকিয়ে রাখতে হবে। সেটি করতে পারলে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে আমরা ভিন্ন এক বাংলাদেশ দেখতে পাব।’
অনুষ্ঠানে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপারসন শাহ নিসতার জাহান কবীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রইছ উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ সাবিনা শরমীন।


