চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে রিকশাভ্যানে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো নিয়ে বিরোধের জেরে ফজলুল আমিন নামে এক যুবদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ফজলুল আমিন ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, দোকান বসানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ফজলুল আমিনকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি আগে বাইপাস সার্জারি করেছিলেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ) কাজী মো. বিধান আবিদ বলেন, ধাক্কা দেওয়ার পর ফজলুল আমিন অসুস্থ বোধ করেন। আগে তার কোনো অসুস্থতা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে পরিবারের অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ রিকশাভ্যানে দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বিএনপি-সংশ্লিষ্ট শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতের সঙ্গে ফজলুল আমিনের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার দোকান বসানো নিয়ে কথা কাটাকাটির পর তাকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা হয় বলে পরিবারের দাবি।
স্থানীয়রা জানান, দোকান বসানো নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই বিরোধ ছিল। এ নিয়ে বৈঠকে নির্দিষ্ট স্থানে দোকান না বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। ঘটনার আগের দিন একটি ভ্যান সরিয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার আবার সেখানে ভ্যান বসানো হলে ফজলুল আমিন আপত্তি জানান।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভ্যান বসানোর পেছনে প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশ ছিল। তবে এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতের পরিবার শাহজাহান (৪৫) ও তার ছেলে সিফাতকে (২০) আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছে। মামলায় আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’
অভিযুক্ত শাহজাহান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক সদস্যের অনুসারী ও কৃষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
নিহতের ছেলে জোবায়ের হক ইনান বলেন, ‘আমার বাবার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার চাই।’


