মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতি এবং রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বাধ্য করায় মোট ১৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে লেবাননে পাঁচজন, সৌদি আরবে তিনজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুইজন, ইরাকে একজন এবং বাহরাইনে একজন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে একজনের মরদেহ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়েছে এবং নয়জনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে আনা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে বিমানবন্দর থেকে মরদেহ দাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও আটজন শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।
রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভন ও ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
এদিকে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির (লাইসেন্স নম্বর: আরএল ১৪৫৫, ১৪২৮ ও ২৫০৫) মাধ্যমে বিএমইটি থেকে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশি যুবক রাশিয়ায় যান।
সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হতে থাকে।
এই খবর পাওয়ার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং গত ১৫ জুন মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসকে কর্মীদের উদ্ধারের জন্য চিঠি পাঠানো হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ৩০ জনের মধ্যে চারজন কর্মী ইতিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন। বাকি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা ও উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরও জানান, অসুস্থ ও মৃত কর্মী পরিবহনের জন্য ঢাকা ও সিলেট বিমানবন্দরে ২টি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স এবং চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১টি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা বিমানবন্দরে আরও ২টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের লাগেজ বহনের সুবিধার্থে ২০০টি ট্রলি ক্রয় প্রক্রিয়াধীনের পাশাপাশি অসুস্থ ও আহত কর্মীদের জন্য ১০টি হুইল চেয়ার দেওয়া হয়েছে।


