ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষ কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মাদ্রাসা গট্টি এলাকায় শুক্রবার বিকালে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পূর্ব থেকেই বিরাজমান বিরোধের জেরে বিষয়টি দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যার পর পার্শ্ববর্তী ছোট বালিয়া গ্রামে সংঘর্ষ শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ছোট বালিয়া গ্রামের জাহিদ মাতবরের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ নুরু মাতবরের সমর্থক আট থেকে ১০ জনের বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় মিরান মুন্সি ও দেলোয়ার মাতবরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে পাল্টা হামলা চালায় নুরু মাতবরের লোকজনও। এতে জাহিদ মাতবরের পক্ষের শফি শেখসহ কয়েকজনের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়তে থাকলে তা আশপাশের গোয়ালপাড়া, খোয়াড় ও ভাবুকদিয়া গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে। গোয়ালপাড়া গ্রামে ইলিয়াস মাতবর, উচমান খাঁ, রব্বান ও আলী মাতবরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে মজিবুর সিকদারের একটি দোকানে লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় এক নারী যিনি নিজেকে কাওসার মাতবরের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘ভাবুকদিয়া গ্রামের পাভেল রায়হানের লোকজন, খোয়াড় গ্রামের মুরাদ, শাফিকুল ও ছামাদের অনুসারীরা এবং সিংহপ্রতাপ ও খাগৈড় এলাকার মাহফুজের কয়েকশ লোক একত্র হয়ে হামলা চালিয়েছে।’
তবে পাভেল রায়হানসহ কয়েকজন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কারা হামলা চালিয়েছে তা আমরা জানি না। আমাদের ওপর মিথ্যা দোষ চাপানো হচ্ছে।’
এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টহল জোরদার করে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান জানান, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।’
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ বিরোধ চলছিল। প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক থাকলেও এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
শিরোনাম
- ‘চলতি বছরেই প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে প্যাথলজিক্যাল ল্যাব স্থাপন’
- জলাবদ্ধতায় পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি
- রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানাকে করা হবে আধুনিক সাফারি পার্ক: টুকু
- ৫ শতাংশ কর হ্রাসে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের সুযোগ দেখছে ইউজিসি
- ঢাকার বস্তিতে পানিবন্দী কয়েক লাখ মানুষ
- হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আশ্বাস সৌদি রাষ্ট্রদূতের
- যশোরে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
- বাবুগঞ্জে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
Monday, 13 July 2026


