বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারা দেশে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরি প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এই সেন্টার স্থাপিত হলে দেশে বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হবে।
বুধবার বিকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আউয়ালের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। বিকাল ৩টায় অধিবেশন শুরুর পর দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম ত্রিশ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সুসংহতকরণ, সম্প্রসারণ ও বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগসহ থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া সে দেশের সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ থাকা বা সংকুচিত শ্রমবাজার চালুকরণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া, বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহকে সে দেশের চাহিদা নিরূপণপূর্বক জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা, কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যে জয়েন্ট কমিটির সভা এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে আরও চুক্তির পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নর্থ মেসোডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস, পর্তুগালসহ ইউরোপের যেসব দেশে দক্ষ কর্মী প্রেরণের সুযোগ রয়েছে অথচ সেসব দেশের ভিসা সেন্টার বাংলাদেশে নেই, সেসব দেশের ভিসা সেন্টার ঢাকায় স্থাপনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বিদেশে অধিক কর্মী প্রেরণ আরও সহজতর হবে।’
বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির করণীয় নির্ধারণে গত ৫ ও ২৪ মার্চ, ২০২৬ এবং ৫ এপ্রিল ৩টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভাসমূহে যেসব দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে তা পুনরায় খোলাসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে সে দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই কার্যক্রম চলমান আছে। ইতোমধ্যে বোয়েসেলের মাধ্যমে মৌসুমি কর্মী প্রেরণ শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সঠিক সমন্বয়ের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। এই সেলের সঙ্গে জাপানে কর্মী প্রেরণকারী ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টির বেশি বেসরকারি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ৬০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে (টিটিসি) একক কাঠামোয় আনা হয়েছে।
বিএমইটির আওতায় চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ভাষা কোর্স চালু ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে ৬০টি টিটিসিতে জাপানিজ, ইংরেজি, চায়নিজ এবং কোরিয়ান ভাষা কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।


