‘শুধু পড়ানো ও পড়া নেওয়া শিক্ষকের দায়িত্ব নয়’

‘শুধু পড়ানো ও পড়া নেওয়া শিক্ষকের দায়িত্ব নয়’
Advertisement
Advertisement

শুধু পাঠ্যবই পড়ানো আর শিক্ষার্থীদের পড়া নেওয়ার মধ্যেই শিক্ষকের দায়িত্ব শেষ নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা পদমর্যাদা দিয়ে আদায় করা যায় না। নিজের জ্ঞান, যোগ্যতা ও আচরণের মাধ্যমে সেই শ্রদ্ধা অর্জন করতে হয়। শিক্ষার্থীদের কাছে অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে হবে শিক্ষকদের।

চট্টগ্রামে নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক শনিবার এসব কথা বলেন।

শিক্ষকদের উদ্দেশে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বই তো এখন ইন্টারনেটেও পড়া যায়। আপনি শুধু যদি বই পড়ান আর বইয়ের পড়া নেন, তাহলে প্রকৃত শিক্ষক হিসেবে আপনি সার্থক হলেন কি না, সেটি বলা যায় না।’ শিক্ষার্থীরা যখন একজন শিক্ষকের জ্ঞান, মেধা ও আচরণকে সম্মান করবে এবং তাকে অনুসরণ করবে, তখনই তার শিক্ষকতা সার্থক হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভয়ভীতির পরিবর্তে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ভয়ের মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হবে। তা না হলে দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

আরও পড়ুন

শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল ডিগ্রি অর্জন নয় উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ থাকলেও একজন শিক্ষার্থী যদি দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে সেই শিক্ষার সুফল দেশ ও সমাজ পাবে না।

শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষককে চলে যেতে হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক। শিক্ষকদের নিজেদের যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের আস্থা ও সম্মান ফিরিয়ে আনতে হবে।

প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকদেরও নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা কঠিন হবে।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জেলা প্রশাসক দাবি করেন, শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখানো হয়েছে। পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লটারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কর্মস্থল ও সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতাকে দায়িত্ব পালনের অন্তরায় না করার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দেশকে কতটুকু দিলাম, কী অবদান রাখলাম, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে যে সেবা গ্রহণ করছি, তার বিপরীতে রাষ্ট্রকে কী দিলাম—এই প্রশ্ন নিজেকে করতে হবে।’

মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু নির্দেশনা দিয়ে কাউকে মানবিক করা যায় না। নিজেদের আচরণ ও মূল্যবোধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad