হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোতলা থেকে নিচে পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ তথ্য জানান। এদিকে ঢাকা সেনানিবাসে সামরিক মর্যাদায় নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
বিমানমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ড্রাইভারের অদক্ষতা কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে বিমান বাহিনীর গাড়িটি তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, গাড়িটির চালক কতটা দক্ষ ছিলেন, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি কত ছিল কিংবা অন্য কোনো কারিগরি বা অবকাঠামোগত কারণ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
মন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে তৃতীয় টার্মিনালের অভ্যন্তরে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে তৃতীয় টার্মিনালের ভেতরে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ওয়ারেন্ট অফিসার মাহমুদ, কর্পোরাল পিয়াস ও এলএসি জুবাইদুল। আহতদের মধ্যে কর্পোরাল মাহবুব ও এলএসি আহাদ গুরুতর। সিনিয়র অফিসার আবুল খায়ের সামান্য আহত হয়েছেন। তারা সিএমএইচে চিকিৎসাধীন।
এদিকে আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ঢাকা সেনানিবাসের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম একে খন্দকারের (কুর্মিটোলা) সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে সামরিক মর্যাদায় নিহতদের জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অংশ নেন। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিহতদের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারের সদস্য, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পদবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিদল যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করবে।
তিন সদস্যের মৃত্যুতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন>>>
বিমানবন্দরে গাড়ি দুর্ঘটনায় বিমান বাহিনীর ৩ সদস্য নিহত


