রাজধানীর ওয়ারীতে বাসার ভেতরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ল্যাব স্থাপন করে অপ্রচলিত সিনথেটিক মাদক ‘কুশ’ চাষের ঘটনায় মূল হোতা আমেরিকান নাগরিক তৌসিফ হাসানকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দারা।
রোববার সকাল সাড়ে আটটা থেকে ৯টা পর্যন্ত ঢাকার ওয়ারী র্যাংকিন স্ট্রিটের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তার ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করা হলে পরীক্ষার ফলাফলে মেথামফিটামিন ও ক্যানাবিনয়েড উভয় উপাদানের উপস্থিতি পজিটিভ পাওয়া গেছে। অভিযানে তার কাছে ১০ পিস মেথামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তৌসিফ ঢাকার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ইয়াবা ও কুশ সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে। তার মাদক সংশ্লিষ্টতার অন্যান্য দিক এবং মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।
গ্রেপ্তারকৃত তৌসিফ হাসানের বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও গাঁজা নিজ হেফাজতে সংরক্ষণের অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ওয়ারী থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পূর্ববর্তী কুশ ল্যাবের মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ইয়াবা পাচারের চেষ্টার ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অনুসন্ধানের সূত্র ধরে তৌসিফের ওয়ারীর বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তার বাসার ভেতরে অপ্রচলিত মাদক ‘কুশ’ চাষের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। ল্যাব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আনা কুশের বীজ, চাষ করা কুশ গাছ, সদ্য সংগৃহীত কুশ, চাষের বিভিন্ন উপকরণ, সিসা সেবনের সরঞ্জাম ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছিল।
এ ছাড়া বাসার ছাদে টিন ও ফয়েল পেপার দিয়ে তৈরি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষেও একাধিক টবে কুশ চাষের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তদন্তে জানা যায়, তৌসিফ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থানকালে কুশ চাষের কৌশল রপ্ত করেন। পরবর্তীতে দেশে এসে নিজ বাসায় বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করে কুশ চাষ শুরু করেন। বিদেশে অবস্থান করেও দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে ল্যাবের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। এ কাজে তার এক বান্ধবীও সহযোগিতা করতেন বলে তদন্তে উঠে আসে। একই সময়ে ওই বান্ধবীর মাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসে ৩২ পিস ইয়াবা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে ডিএনসির অভিযানে তা উদ্ধার হয়।
ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বান্ধবী ও তৌসিফের বাসার তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় তৌসিফকে পলাতক আসামী করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত তৌসিফকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছিল।


