ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রোববার অভিযোগ গঠনের এ আদেশ দেয়। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়েছে।
মামলার উদ্বোধনী বক্তব্যের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী। অভিযোগ গঠনের জবাবে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সোবহান তরফদার।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীসহ ঊর্ধ্বতন অন্যান্য কর্মকর্তার নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে তাইমকে হত্যা করা হয়। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলার পলাতক আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।
এর আগে, যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
২০২৪ সালের ২০ জুলাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ইমাম হাসান তাইম। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বন্ধু রাহাতকেও গুলি করে পুলিশ। নিহত তাইমের বাবা মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়াও একজন পুলিশ কর্মকর্তা।


