শ্রমিক বিক্ষোভ/ মিরপুরে সংঘর্ষ-আগুন, ৫ মামলায় আসামি ১০ হাজারের বেশি

মিরপুরে সংঘর্ষ-আগুন, ৫ মামলায় আসামি ১০ হাজারের বেশি
রোববার সকালে মিরপুর ১০ নম্বরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানী ঢাকার মিরপুরে টানা তিন দিনের বিক্ষোভ, অগ্নি সংযোগ, সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপ কমিশনার আবু নাসের রিকাবদার।

তার দেওয়া তথ্যমতে, মিরপুরে সহিংসতার ঘটনায় পল্লবী থানায় তিনটি, মিরপুর মডেল থানায় একটি, কাফরুলে একটি মামলা হয়েছে।

এর আগে মিরপুর গোলচত্বর এলাকায় উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, ‘আজ শ্রমিকরা দুই দফায় রাস্তায় নামার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও মামলা হবে ৷ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৯ জন গ্রেপ্তার ছিল। আজ দুপুর পর্যন্ত মোট ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মিরপুর থানায় ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর, পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। আজকেও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার হয়েছে, তবে তাদের যাচাই-বাছাই চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মামলার বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, পুলিশের গাড়িতে অগ্নি সংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং ট্রাফিক্স বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে পল্লবী থানায়। এসব মামলার বাদী পুলিশ। প্রতিটি মামলায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার মানুষকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) বলছে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে মিরপুরে সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তাদের একটি অংশ অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছিল। আন্দোলনের আড়ালে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

আরও পড়ুন

মিরপুরে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তারা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জনমনে আতঙ্ক ও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

এদিকে বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকেরা ফের সড়কে নামার চেষ্টা করেন। তাদের ছত্রভঙ্গে করতে ধাওয়া দেয় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রূপনগর, মিরপুর-৬ নাম্বার শিয়ারবাড়ী ও পূরবী এলাকার কয়েকটি গার্মেন্টস থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দলে দলে শ্রমিকেরা মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে প্রশিকা মোড়ের দিকে আসতে থাকেন। তারা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে সকাল নয়টায় মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় জড়ো হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে নিজ নিজ কারখানায় ফিরে যান।

এর আগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম ও প্রিভেনশন উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুষ্কৃতিকারী, যারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে, যারা আইন লঙ্ঘন করে আইন-শৃঙ্খলা অবনতি করতে চায়, তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট এখানে উদ্দেশ্য থাকতে পারে। যেই হোক, আমাদের কাছে যারা আইন অমান্য করছে, আইন লঙ্ঘন করছে, আইন-শৃঙ্খলা অবনতি করতে চাচ্ছে বা করছে, তারা আমাদের দৃষ্টিতে অপরাধী। আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’

গ্রেপ্তারদের পরিচয় পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো অপরাধীর বিশেষ কোনো পরিচয় নাই। যারা আইন অমান্য করছে, আইন অমান্য করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বা সম্পদের হানী করার চেষ্টা করছে তারা আমাদের দৃষ্টিতে অপরাধী’।

এদিকে মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা বিক্ষোভ-সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। গোলচত্বরে পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান, জলকামানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তবে মিরপুর-১০ নম্বর ও আশপাশের এলাকার সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে কোনো বিঘ্ন দেখা যায়নি। পথচারী ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad