মিঠামইনে ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আটক ২, বিক্ষোভ

মিঠামইনে ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আটক ২, বিক্ষোভ
মিঠামইনে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আটক ২। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মিঠামইনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা দ্রুত বিচারের দাবিতে মিঠামইন থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

আটকরা হলেন হৃদয় মিয়া (২০) ও তার ফুফাতো বোন জামাই ইমরান হোসেন(২৫)। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীর সহপাঠী ও শিক্ষকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভুক্তভোগী অত্যন্ত শান্ত ও নিয়মিত ছাত্রী ছিল। এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার না হলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ আরও বাড়বে।

সহপাঠীরা জানায়, এমন প্রাণচঞ্চল একটি মেয়ের এই নির্মম পরিণতি তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।

আরও পড়ুন

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকালে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় ভুক্তভোগী ছাত্রী। নিহতের মা জানান, স্থানীয় অটোরিকশাচালক হৃদয় কিছুদিন ধরে তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিল। পড়ালেখার ক্ষতি হবে ভেবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই সে তার মেয়েছে ফুসলানোর চেষ্টা করছিল।

নিখোঁজের পরদিন রোববার রাতে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি নদীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। ভিডিও দেখে মা ও প্রতিবেশীরা ওই ছাত্রীর মরদেহ শনাক্ত করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি নদীর স্রোতে ভেসে যায়।

অভাবের সংসারে বাসাবাড়িতে কাজ করে মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন মা। মানববন্ধনের পর আর্তনাদ করে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচার তো পরে, এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের মরদেহটিই খুঁজে পাচ্ছি না।’

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। আটক দুই আসামিকে আগামীকাল শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad