‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে’

‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে’
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পেশাদারত্ব, সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) এ এস এম আমানুল্লাহ।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্যতা, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বুধবার সকালে গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া পরিষদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে আমানুল্লাহ বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি স্মার্ট ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব, গণতন্ত্রের জন্য তার দীর্ঘ সংগ্রাম এবং দেশের উন্নয়নে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমাজে একটি শক্তিশালী, তথ্যনির্ভর ও একাডেমিক ডিসকোর্স তৈরি করা জরুরি।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, দল ও সরকারকে যেমন এক করা যায় না, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় ও কোনো দলের সাংগঠনিক কাঠামো এক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে তার নিজস্ব আইন, বিধি-বিধান, একাডেমিক মূল্যবোধ ও প্রশাসনিক পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষ প্রশাসন একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরিহার্য ভিত্তি। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নিয়মনীতি অনুসরণ, যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং দায়িত্বশীলতার চর্চার মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।

আমানুল্লাহ বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে দেশের ইতিহাস ও জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ নায়কদের ভূমিকা বস্তুনিষ্ঠভাবে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাষ্ট্র পরিচালনায় তার সততা, সাধারণ জীবনযাপন ও নেতৃত্বের গুণাবলীও আলোচনায় আসা দরকার ।

দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন সংকটময় সময়ে তাঁর ‘অটল ও আপসহীন’ভূমিকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দেশের সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন ।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাসকে শুধু দলীয় আবেগের জায়গা থেকে নয়, বরং গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর মো. লুৎফর রহমান বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, দেশের অগ্রযাত্রার জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস, গণতন্ত্র ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হওয়া আবশ্যক।

সভায় বক্তারা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য, দলটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রযাত্রায় বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্নাতকোত্তর, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) এবং জিয়া পরিষদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম। জিয়া পরিষদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর সরকারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও সেবা দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মিয়া হোসেন রানা, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, জিয়া পরিষদ গাজীপুর জেলার সভাপতি ইয়াকুব মিয়া।

আলোচনা সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর