বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের ডাকা সোমবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার বিকালে টাইমস অব বাংলাদেশ বিষয়টি জানিয়েছেন সংগঠনের বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
তিনি জানান, আট দফা দাবি পূরণের লক্ষ্যে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবারের হরতাল প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে রোববার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তালেবের সভাপতিত্বে সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগিরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ সিনিয়র নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় একটি কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চাকরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে ‘রাজার সনদ’ প্রথা বাতিলসহ আট দফা দাবিতে বান্দরবানে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের তোলা দাবিগুলো হলো- ব্রিটিশ রচিত প্রহসনের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল করে সংবিধানের আলোকে তিন পার্বত্য জেলার শাসনব্যবস্থা চালু করা। জমি ক্রয়-বিক্রয়, চাকরি, শিক্ষাসহ সবক্ষেত্রে ‘রাজার সনদ’ বাতিল করা। ৬১ জেলার মতো রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু করা। বাজার ফান্ড প্লটের লীজের মেয়াদ ৯৯ বছরে উন্নীত করা ও বন্ধ রাখা ব্যাংক ঋণ আবার চালু করা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শান্তিচুক্তির নামে পাহাড়ের দুর্গম এলাকাগুলো থেকে শত শত নিরাপত্তা ক্যাম্প তুলে নেয়ার কারণে বিশাল এই অঞ্চল সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছে।
‘রাজার সনদ’ বলতে বান্দরবানের বোমাং রাজার দেওয়া একটি প্রত্যয়নপত্র বা জমি সংক্রান্ত প্রমাণপত্রকে বোঝায়। সরকারি চাকরি বা জায়গা-জমি রেজিস্ট্রি করতে এই সনদ প্রয়োজন পড়ে। সনদটির অফিশিয়াল মূল্য ২০০ টাকা। অথচ এলাকাবাসীর অভিযোগ, সনদ পেতে হলে দিতে হয় ৩০ হাজার টাকারও বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সরকারি কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষা কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থার গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, গণমাধ্যমকর্মী এবং জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহন, হাসপাতাল, ফার্মেসি ও খাবারের দোকান হরতালের আওতামুক্ত থাকবে। তবে এই হরতালের আহ্বানকে কেন্দ্র করে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে দ্বিধা-বিভক্তি দেখা দেয়।


