পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি, সতর্ক করলো বিজিবি

পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি, সতর্ক করলো বিজিবি
Advertisement
Advertisement

এক বছরেরও বেশি সময় আগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ঘটনা হিসেবে প্রচার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবির) বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাহিনীটি। ভিডিওতে দেখানো ব্যক্তিরা ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সদস্য নন, বরং মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে বিজিবি। রোববার সকালে বিজিবির সদর দপ্তর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হঠাৎ করেই বিজিবির মুখোমুখি ইউপিডিএফ! অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের নাগালে পেয়েও…..’ শিরোনামে এক বছরেরও বেশি সময় আগের একটি ভিডিও পুনরায় প্রচার করা হচ্ছে। এতে বিজিবির ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনাটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবানের থানচির বংকুপাড়া শূন্যরেখা এলাকায় ঘটেছিল। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইউপিডিএফের সদস্য ছিলেন না। তারা ছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিজিবি আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিপি-৭১-এর কাছাকাছি এলাকায় আরাকান আর্মির একটি দল সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে। বিষয়টি জানার পর বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) অধিনায়কের নেতৃত্বে বংকুপাড়া বিওপি থেকে ৩৮ সদস্যের একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দলটিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

বিজিবির দাবি, ওই ঘটনায় তারা তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে।

আরও পড়ুন

পুরোনো ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক হিসেবে উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর পরিচয় পরিবর্তন করে ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। বিজিবির গৃহীত পদক্ষেপের প্রকৃত তথ্য আড়াল করে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে ভিডিও প্রচার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিপন্থি বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। পুরোনো ও খণ্ডিত ভিডিও নতুন করে প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, বিজিবির প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন এবং দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মনে করে তারা।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বিজিবি জানায়, দেশটির বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সরকারি বাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও উপস্থিতি সীমিত। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবাধীন। পাশাপাশি খুমি ও অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো স্বতন্ত্র ইউনিফর্ম না থাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া এবং সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি সদস্যদের অত্যন্ত সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

বিজিবি বলেছে, দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা কাম্য নয়। এ ধরনের পুরোনো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad