স্থানীয় সময় শনিবার এক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, চলতি সপ্তাহের এই সাইবার হামলার সঙ্গে ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামে পরিচিত একটি হ্যাকার গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। গত বছর বাইবিট থেকে ১৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির পেছনেও একই গোষ্ঠী ছিল।
চুরি করা অর্থের উৎস আড়াল করতে যাতে অর্থ পাচার করা না যায়, সে জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল মুদ্রার ঠিকানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন বন্ধ করতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে এফবিআই।
সংস্থাটির দাবি, তদন্তে দেখা গেছে- ট্রেডারট্রেইটর চুরি করা সম্পদ প্রধানত ইথেরিয়াম নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করছে। এফবিআইয়ের ধারণা, গোষ্ঠীটি এখন বিকেন্দ্রীভূত আর্থিক সেবা এবং তাৎক্ষণিক ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব সম্পদ অন্য মুদ্রায় রূপান্তরের চেষ্টা করবে।
তবে এই চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার রাতে ফ্লোরিডায় নিজের মার-আ-লাগো বাসভবনে আয়োজিত হ্যালোইন উৎসবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি উদ্বিগ্ন নই। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছি। এর পেছনে উত্তর কোরিয়া আছে কি না, তা আমরা জানি না।’
তবে তদন্তে শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততা পাওয়া যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশেষজ্ঞ আরি রেডবোর্ডের ধারণা, শনাক্ত হওয়া এড়াতে হ্যাকাররা চুরি করা ডিজিটাল সম্পদ ছোট ছোট অংশে ভাগ করে বিভিন্ন ছোট বিনিময় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচারের চেষ্টা করবে। এই প্রক্রিয়া কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।
ব্লকচেইনভিত্তিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের প্রধান নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা রেডবোর্ড বলেন, ‘এটি আসলে ব্যাংক ডাকাতির মতো, তবে এখানে ডাকাতি করা হচ্ছে ইন্টারনেটের গতিতে।’
‘আমরা এসব অর্থের গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে অনুসরণ ও শনাক্ত করতে পারি। এর মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া, অর্থ পাচার ঠেকানো এবং চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব। এটি আসলে চোর-পুলিশ খেলার মতোই’, যোগ করেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্স থেকে বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মুদ্রায় মোট ৬৩০ কোটি ডলার চুরি হয়। বেশ কয়েকজন ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশেষজ্ঞ শুরু থেকেই বলে আসছিলেন, সাইবার হামলার ধরন অনুযায়ী এই চুরিতে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এদিকে শনিবার বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া ডিজিটাল মুদ্রার ৯০ শতাংশের সমপরিমাণ সম্পদ তারা এরইমধ্যে সংরক্ষণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গ্রাহকদের ক্ষতি সম্পূর্ণভাবে পুষিয়ে দেওয়া হবে।
এই চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো গ্রাহককে আর্থিক লোকসান বহন করতে হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছে বাইন্যান্স।


