ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আদালতের রায়ে খালাস পাওয়া ১ নারীসহ ৮ জন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন- মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ এবং কামরুন্নাহার মনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. জাকির হোসেন। তিনি জানান, আদালতের খালাসের আদেশ সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর তা যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী আটজনকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কারাগার সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুক্তির খবর পেয়ে সকাল থেকেই স্বজনরা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। দুপুরের পর একে একে তারা কারাগার থেকে বের হলে স্বজনদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে পেয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সদস্যরা ফুলের মালা পরিয়ে ও ফুল ছিটিয়ে তাদের বরণ করে নেন।
মুক্তিপ্রাপ্ত কামরুন্নাহার মনির সঙ্গে তার ৭ বছরের মেয়ে মোবাশ্বেরা খানম রাথীও কারাগার থেকে বের হয়। এরপর তারা ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন।
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচার শেষে আদালত কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন সাজা দেন।
গত ২৪ আগস্ট দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দেয় হাইকোর্ট।
উচ্চ আদালতের রায়ে খালাস পাওয়া আটজন কাশিমপুর কারাগার থেকে মঙ্গলবার মুক্তি পেলেন।


