রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচিত নুরুল হক মোল্লা ওরফে নুরাল পাগলের দরবারে হামলার ঘটনার দুই মাসেরও বেশি সময় পর নতুন মামলা হয়েছে।
মামলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, জামায়াত, বিএনপি ও এনসিপি নেতা, মসজিদের ইমাম, সাংবাদিকসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের আমলি আদালতে মামলাটি করেন নুরাল পাগলের শ্যালিকা শিরিন বেগম। আদালতের বিচারক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামজিদ হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মামলায় ৯৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। চলতি বছরের ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে মামলাটি তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত।’
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মুহিতকে।
এছাড়া উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন–গোয়ালন্দ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির জালাল উদ্দিন প্রামাণিক, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ইমান আকিদা রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব আইয়ুব আলী খান, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম মাহাবুব রাব্বানী, আল জামিয়া নিজামিয়া আরাবিয়া কওমি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম কাশেমী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম, গোয়ালন্দ মডেল মসজিদের ইমাম মুফতি আজম, বড় মসজিদের ইমাম হাফেজ আবু সাঈদ (কারাগারে), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গোয়ালন্দ উপজেলা শাখা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী রাকিব হাসান ও যুগ্ম সমন্বয়কারী নাজমুল ইসলাম, ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী মকিম মণ্ডল, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার গোয়ালন্দ উপজেলা সংবাদদাতা মেহেদুল হাসান আক্কাছ।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ বাজার শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে উপজেলা ‘ইমান আকিদা রক্ষা কমিটি ও তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে একদল মানুষ বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় নুরাল পাগলের দরবারে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা শরিয়ত পরিপন্থীভাবে দাফনের অভিযোগ তুলে নুরাল পাগলের মরদেহ কবর থেকে তুলে আনে। একপর্যায়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দের পদ্মার মোড় এলাকায় মরদেহটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হামলা চালানো হলে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন। হামলায় আহত হয়ে মারা যান রাসেল মোল্লা নামের এক ব্যক্তি।
রাসেল মোল্লার বাবা আজাদ মোল্লা গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করেন। এতে রাসেল হত্যাসহ নুরাল পাগলের দরবারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে নিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটিতে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার অজ্ঞাতপরিচয়কে আসামি করা হয়। ওই মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ৬ সেপ্টেম্বর রাতে গোয়ালন্দ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।


