নীলফামারী-২: প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর

নীলফামারী-২: প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর
Advertisement
Advertisement

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী সদর-২ আসনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শুক্রবার নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগপত্র জমা দেন তুহিন।

অভিযোগপত্রে শাহরিন ইসলাম তুহিন উল্লেখ করেন, তিনি নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে প্রশাসনের কিছু সদস্য বিভিন্ন সময়ে তার নির্বাচনী কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে রাতের আঁধারে প্রবেশ করে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার না চালানোর জন্য হুমকি দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের বাড়িতে প্রশাসনের সদস্যরা রাতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একই ধরনের ঘটনা ঘটে চড়াইখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম রেজা ও খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রশান্ত রায়ের বাড়িতেও।

এ ছাড়া তুহিন অভিযোগ করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থক ও সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে বিভিন্ন ইউনিয়নে ধানের শীষের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলছে এবং আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

শাহরিন ইসলাম তুহিন বলেন, ‘প্রশাসনের এই ধরনের আচরণের কারণে আমি নীলফামারী-২ আসনে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে চরম শঙ্কিত। এভাবে চলতে থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না।’

তিনি জানান, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার পাশাপাশি বিষয়টি অবগতির জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, সেনাপ্রধানের কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং রংপুর বিভাগীয় কমিশনার বরাবরও লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।

নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক বলেন, ‘প্রশাসনের এই আচরণ সম্পূর্ণ অন্যায় ও অনিয়ম। স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে তারা একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন নীলফামারী-২ আসনে একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাত ভাই এবং ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক। কিন্তু এভাবে প্রশাসনিক বাধা অব্যাহত থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে নীলফামারী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগের কপি জেলা পুলিশ সুপার এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধে গঠিত জুডিশিয়াল কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad