যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ বছরের মধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে অঙ্গরাজ্যে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
সোমবার নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানান, অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ লুইস কাউন্টিতে ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বার্তাসংস্থা এপির খবরে বলা হয়, উচ্চ হারে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামের স্থানীয় সংক্রমণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে হামের টিকাদান কর্মসূচি শঙ্কাজনক হারে কমেছে।
হামের মতো ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষকে নিয়মিত টিকার আওতায় রাখা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে টিকাদানের হার সেই সীমার নিচে নেমে এসেছে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির গভর্নর ক্যাথি হোকুল শিশুটির মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষায় কয়েক দশকের অর্জন ওয়াশিংটন যখন ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে, তখন কী ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে, এই মৃত্যু তারই মর্মান্তিক উদাহরণ।’
যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশটিতে হাম-সংশ্লিষ্ট তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি।
পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছর তাদের অঙ্গরাজ্যে হামে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হাম উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু ‘নিশ্চিত হাম’ কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্যগুলো এবং নিউইয়র্কের গ্রামীণ এলাকায় হামের সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় অক্টোবরের শুরুতে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল।
এ-সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার অনুমতিপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিধি বাড়ানো হয়। এর ফলে জরুরি চিকিৎসাসেবাকর্মী, ধাত্রীসহ আরও কয়েকটি শ্রেণির স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গে নার্সদেরও হাম শনাক্তের পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।


